উৎপাদন বন্ধের প্রায় পৌনে দুই বছর পর সিলেটের গোলাপগঞ্জের ‘কৈলাশটিলা এলপিজি প্লান্ট’ ফের চালুর কথা ভাবছে সরকার। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সভায় প্লান্টটি চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্তও হয়েছে। আরপিজিসিএলের মহাব্যবস্থাপক বলছেন, প্লান্টটি পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত হলেও এখনো বিষয়টি ‘এনালাইসিস’ পর্যায়ে রয়েছে। প্লান্টটি চালু হলে বন্ধ এলপি গ্যাস বটলিং কারখানা চালু ও নতুন কূপ থেকে পাওয়া গ্যাসের এনজিএল কাজে লাগানোর সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গোলাপগঞ্জের এলপি গ্যাস ও পেট্রলিয়াম উৎপাদনকারী আরপিজিসিএলের এলপিজি প্লান্টে উৎপাদন প্রায় পৌনে দুই বছর বন্ধ। চলতি বছরের ২২ মার্চ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি সভায় সিলেটের গোলাপগঞ্জের ‘কৈলাশটিলা এলপিজি প্লান্ট’ উৎপাদন বন্ধসংক্রান্ত বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সভায় অংশ নেন। একপর্যায়ে সভায় সিদ্ধান্ত হয়, পুনরায় উৎপাদন চালু করার। সিদ্ধান্তে বলা হয়, সিলেট গ্যাসফিল্ড থেকে প্রাপ্ত এনজিএল আরপিজিসিএলের কৈলাশটিলা প্লান্টে সরবরাহ করতে হবে। কৈলাশটিলা প্লান্ট থেকে উৎপাদিত পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য প্রস্তাব মোতাবেক অ্যাকোয়া রিফাইনারিকে সরবরাহ করতে হবে।

সিলেটের গোলাপগঞ্জের দাড়িপাতনে রয়েছে কৈলাশটিলা এমএসটিই গ্যাসফিল্ডের খনি। মূলত এ খনি থেকে উত্তোলিত মূল্যবান এনজিএল (ন্যাচারাল গ্যাস লিকুইড) কাজে লাগাতে ১৯৯৮ সালে পেট্রোবাংলার অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হিসেবে আরপিজিসিএল (রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড) প্লান্টটি স্থাপন করা হয়। এ প্লান্টের অবস্থান গ্যাস খনিরই পাশের গোলাপগঞ্জ উপজেলা সদরের টিকরবাড়ী এলাকায়। যেটি জ্বালানি তেল পেট্রল, ডিজেল এবং এলপি গ্যাস উৎপাদনকারী কৈলাশটিলা এলপিজি প্লান্ট নামে পরিচিত।

এদিকে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে আরপিজিসিএলের কৈলাশটিলা এলপিজি প্লান্টের উৎপাদিত পেট্রল মানসম্পন্ন না হওয়ায় বিপিসি পেট্রল নেয়া বন্ধ করে দেয়। ফলে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। আরপিজিসিএলের প্লান্ট বন্ধ থাকায়  উপজেলার দাড়িপাতনে সিলেট গ্যাস ফিল্ডের কৈলাশটিলা এমএসটিই গ্যাস ফিল্ড খনি থেকে উত্তোলিত বিপুল পরিমাণ এনজিএল (এলপি গ্যাস ও পেট্রোল তৈরির কাঁচামাল) প্রতিদিন পুড়িয়ে ধ্বংস করে দিতে বাধ্য হচ্ছে। এতে সবদিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সরকারের এ লাভজনক প্রতিষ্ঠানটি। আরপিজিসিএল প্লান্টের উৎপাদিত এলপি গ্যাস না পেয়ে পাশেই স্থাপিত এলপি গ্যাস বটলিং (সিলিন্ডার গ্যাস) কারখানাটি প্রায় পৌনে দুই বছর থেকে বন্ধ রয়েছে।

অন্যদিকে স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বেশকিছু দিন থেকে ‘কৈলাশটিলা এলপিজি প্লান্ট’ ফের চালুর ব্যাপারে সরকারের উচ্চ মহলে আলোচনা চলছে। বাংলাদেশ পেট্রলিয়াম করপোরেশন বিপিসি চেয়ারম্যান এবিএম আজাদ এনডিসি নিজে এলপি গ্যাস বটলিং কারখানা পরিদর্শনসহ সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, বিপিসি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একাধিক বৈঠকও হয়। সর্বশেষ গত ২২ মার্চ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের নেতৃত্বে বৈঠকে প্লান্টটি চালুর সিদ্ধান্ত হয় বলে সূত্র জানায়।

সিলেট গ্যাস ফিল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিজানুর রহমান আরপিজিসিএলের প্লান্ট চালুর সিদ্ধান্তসংক্রান্ত সভায় তিনি নিজেও উপস্থিত ছিলেন বলে জানান। তিনি কৈলাশটিলা এমএসটিই গ্যাস ফিল্ডের উত্তোলিত ‘এনজিএল’ পুড়ে ফেলা প্রসঙ্গে বলেন, ৩০ ভাগ এনজিএল মূলত পুড়ে ফেলা হয়। নতুন পাওয়া কৈলাশটিলা-৭নং কূপ থেকে গত ৭ মে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। সেই কূপ থেকেও এনজিএল পাওয়া যাচ্ছে। কৈলাশটিলা-৮নং কূপ খনন শুরুর প্রক্রিয়া চলছে। সেখান থেকে গ্যাসের সঙ্গে এনজিএল পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এসব এনজিএল কাজে লাগাতে হলে আরপিজিসিএলের প্লান্ট যত দ্রুত সম্ভব চালু করা দরকার।

অন্যদিকে ‘কৈলাশটিলা এলপিজি প্লান্ট’ চালুসংক্রান্ত জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের বিষয়টি এড়িয়ে যান আরপিজিসিএলের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) প্রকৌশলী খালেদা বেগম। তিনি বলেন, কনডেনসেট ছাড়া শুধু এনজিএল দিয়ে উৎপাদনে গেলে প্লান্ট ভায়বল (কার্যকর) নাও হতে পারে। বিষয়টি আমরা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করব।