সিলেটের জৈন্তাপুরে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে চলা সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে মাওলানা সালেহ আহমদ (৫০) নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষক নিহত হয়েছেন। রোববার রাতে স্থানীয় হাদপাড়া ও শ্যামপুর গ্রামবাসীর মধ্যে শুরু হওয়া সংঘর্ষ চলে গতকাল সকাল পর্যন্ত। এতে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নিহত হন মাওলানা সালেহ আহমদ। তিনি স্থানীয় হেমু ভাটপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন এবং সিলেট নগরীর মেজরটিলা তাহফিজুল কোরআন মাদ্রাসার শিক্ষক।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও হাদপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রফিক আহমদ এবং শ্যামপুর গ্রামের বাসিন্দা রশিদ আহমদের লোকজনের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে রোববার তারাবি নামাজের পর উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে রাত ১২টার দিকে হরিপুর বাজারে হাদপাড়া ও শ্যামপাড়া গ্রামবাসী সংঘর্ষে জড়ায়। সকাল পর্যন্ত থেমে থেমে চলে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষ। এ সময় আশপাশের গ্রাম থেকে মুরব্বি ও পুলিশ এসে সংঘর্ষ থামাতে চেষ্টা করেন। গতকাল সকালে স্থানীয় মাদ্রাসার একদল আলেম দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতা করতে ঘটনাস্থলে যান। তারা যখন ঘটনাস্থলে যান সে সময় পুলিশ সংঘর্ষ থামাতে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে সবাই এদিক-ওদিক ছুটতে থাকে। একপর্যায়ে সালেহ আহমদ মাটিতে পড়ে যান। তখন হাদপাড়া গ্রামের লোকজন সালেহ আহমদকে ধরে নিয়ে গিয়ে ব্যাপক মারধর করে। এতে তার মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।

সিলেট জেলা পুলিশের এএসপি (মিডিয়া) লুত্ফুর রহমান সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।