অবহেলিত, অধিকারবঞ্চিত, পরিত্যক্ত ও পিতা-মাতাহীন শিশুদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সমাজের মূল ধারায় পুনর্বাসন করাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য অবহেলিত, অধিকারবঞ্চিত, পরিত্যক্ত, পিতা-মাতাহীন এসব শিশুকে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দেয়া এবং দিনশেষে সমাজে পুনর্বাসন করা।’

গতকাল সকালে চট্টগ্রাম সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। কেন্দ্রের শিশুদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম কতটা এগিয়েছে, তা দেখতেই এ পরিদর্শন বলে জানান মন্ত্রী।

পথশিশু ও ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত শিশুদের পুনর্বাসনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের সাইকোসোশ্যাল মোটিভেশনের আওতায় আনতে হবে। এছাড়া তাদের পুনর্বাসন করা সম্ভব নয়। সে লক্ষ্যে আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করছি।’

এর আগে কেন্দ্র প্রাঙ্গণে একটি পেয়ারা গাছ রোপণ করেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী। পরে হলরুমে শিশুদের আঁকা দেয়ালিকার ১২তম সংখ্যা ‘আলোকবর্তিকা’ উন্মোচন করেন তিনি। এ সময় পুনর্বাসন কেন্দ্রের শিশুরা দেশের গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করে।

চট্টগ্রাম সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রের উপপ্রকল্প পরিচালক জেসমিন আক্তার জানান, এখানে পথশিশু, শ্রমজীবী শিশু, গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশু, পিতা-মাতাহীন ও পরিত্যক্ত শিশু, পাচার থেকে উদ্ধার হওয়া শিশু, আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু এবং প্রতিবন্ধীসহ ১৬ ধরনের শিশু রয়েছে। তাদের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা, জীবনমান উন্নয়ন ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সমাজের মূল ধারায় পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে।

২০১২ সালের ১২ আগস্ট প্রতিষ্ঠিত কেন্দ্রটি থেকে এ পর্যন্ত ২ হাজার ২৪টি শিশু সেবা নিয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্নভাবে পুনর্বাসিত হয়েছে ১ হাজার ৩৭৮টি শিশু। এছাড়া ৫০০ শিশুকে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রটিতে ১০০ বালক ও ১০৪ বালিকাসহ মোট ২০৪ শিশু রয়েছে। তাদের বয়স ৬ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে।

এ সময় বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক, হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন এবং কেন্দ্রের উপপ্রকল্প পরিচালক জেসমিন আক্তারসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।