যশোরের শার্শা উপজেলায় স্বর্ণ পাচারকারী চক্রের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে এক চোরাকারবারি নিহত ও দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টায় শার্শা উপজেলার জামতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ ৩০টি স্বর্ণের বার জব্দ করেছে। স্বর্ণের বারগুলোর বাজারমূল্য প্রায় ৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।

নিহত ওলিয়ার (৩৬) বেনাপোল বন্দর এলাকার রাজাপুর গ্রামের জাহান আলীর ছেলে। এদিকে স্বর্ণ পাচারের চেষ্টার অভিযোগে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। তারা হলেন কুমিল্লার হোমনা উপজেলার সাতারদিয়া গ্রামের আবুল সরদারের ছেলে রবিন সরকার (৩৫) ও পাঁচগাছিয়া গ্রামের কবির হোসেনের ছেলে আবুল কাশেম (৩০)।

গতকাল দুপুরে যশোর পুলিশ অফিসের কনফারেন্স রুমে সংবাদ সম্মেলনে নাভারণ সার্কেলের এএসপি জুয়েল ইমরান জানান, ভারতে স্বর্ণ পাচার হতে পারে এমন খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতে শার্শার জামতলার পাঁচপুকুর এলাকার ওরিয়েন্টাল অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের সামনে নাভারণ-সাতক্ষীরা মহাসড়কে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও শার্শা থানা পুলিশ যৌথভাবে অবস্থান নেয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে সেখান দিয়ে একটি সাদা প্রাইভেটকার যাচ্ছিল। এ সময় পুলিশ প্রাইভেটকারটির গতিরোধ করে।

থামানোর পর প্রাইভেটকারে থাকা রবিন সরকার ও চালক আবুল কাশেমকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা কুমিল্লা থেকে এসেছেন বলে জানান। একপর্যায়ে তাদের দেহ ও প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে রবিনের শরীরে বাঁধা ও প্রাইভেটকারের সামনের দিকে রাখা ৩০টি স্বর্ণের বার জব্দ করা হয়েছে। স্বর্ণের বারগুলোর ওজন ৯ কেজি ৭৫৮ গ্রাম। এ ঘটনায় রবিন ও আবুল কাশেমকে আটক করা হয়েছে।

আটক ব্যক্তিদের স্বর্ণের বার নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় মহাসড়কের দু’দিক থেকে ১০-১৫টি মোটরসাইকেলে করে কয়েক ব্যক্তি এসে পুলিশকে লক্ষ্য করে চার-পাঁচটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সময় পুলিশ আত্মরক্ষার্থে রাবার বুলেট ছুড়লে তারা পালিয়ে যায়।

চোরাকারবারিদের ছোড়া ককটেলে দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে ঘটনাস্থল থেকে ৫০০ গজ দূরে গুরুতর আহত অবস্থায় মোটরসাইকেলের নিচে চাপা পড়া ওলিয়ার নামের এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়। তাকে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।