সিলেটে ত্রাণের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন শতাধিক নারী-পুরষ। আজ সোমবার দুপুরে সিলেট সদর উপজেলার ৩নং খাদিমনগর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে বাসিন্দারা ইসলামপুর পুরাবাড়ি জামে মসজিদের পাশে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন তারা।

তাদের অভিযোগ, প্রায় ১০ দিন ধরে ঘরে বন্দি। এখন পর্যন্ত কেউ কোনো ত্রাণ বা সহায়তা দেয়নি। কয়েক ধরে অনেকটা অভুক্ত অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন তারা। বিক্ষোভকারী পরিবারগুলো ত্রাণ না পাওয়ার কথা স্বীকার করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের দাবি, সরকার থেকে যে ত্রাণ দেয়া হচ্ছে তা অপ্রতুল। ফলে সবাইকে একসঙ্গে দেয়া যাচ্ছে না।

জানা যায়, এই ওয়ার্ডে মোট ৪শ পরিবার রয়েছে। পরিবারগুলোর বেশিরভাগই দিনমজুর ও নিম্নআয়ের। এখন পর্যন্ত ওয়ার্ডের মাত্র পাঁচটি পরিবার সরকারি ত্রাণ সহায়তা পেয়েছে।

বিক্ষোভে অংশ নেয়া ইসলামপুর পুরাবাড়ি এলাকার দিনমজুর আব্দুল গফুর বলেন, আজকে ১২ দিন হলো আমাদের কেউ খোঁজ নেয়নি। সরকার থেকে কিছুই পাইনি। ২ দিন ধরে ঘরেও খাবার নেই। চেয়ারম্যান-মেম্বার সবাইকে বলেও ত্রাণ পাচ্ছি না।

দিনমজুর সিদ্দেক আলী জানান, সরকার বলছে ঘরে থাকলেই খাবার পাঠানো হবে। কিন্তু আমরা এখন পর্যন্ত কিছুই পাইনি। ক্ষুধার জ্বালায় বাধ্য হয়ে আজ রাস্তায় নামতে হয়েছে। 

বিক্ষোভে অংশ নেয়া গৃহিনী জুহেরা বিবি বলেন, সহায়তা প্রদান তো দূরের কথা এখন পর্যন্ত এলাকার চেয়ারম্যান মেম্বারদের কেউ আমাদের খোঁজখবরও নেয়নি। 

এই ওয়ার্ডে একাধিক চা শ্রমিক পরিবারেরও বাস। তাদের কয়েকজনও অংশ নেন বিক্ষোভে। এদের মধ্যে চা শ্রমিক জলিকা উড়াং বলেন, মানুষ বলে সরকার অনুদান দিচ্ছে। কিন্তু আমরা কোনো অনুদান পাইনি। পাইলাম না। এখন বাড়িতে ছেলেমেয়ে নিয়ে বিপদে আছি।

এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ৩নং খাদিমনগর ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেন, ইসলামপুর ওয়ার্ডবাসী বিক্ষোভ করেছেন আমি শুনেছি। কিন্তু আমি কি করবো বলেন, সারা ইউনিয়নের জন্য মাত্র দুই টন চাল এসেছে। এই পরিমাণ চাল দিয়ে সবাইকে ত্রাণ দেয়া সম্ভব না। যে এলাকার মানুষজন বিক্ষোভ করেছেন সে এলাকায় মাত্র পাঁচ জন চাল পেয়েছেন। কিন্তু এই এলাকায় আরও ত্রাণ দেয়া প্রয়োজন। আমাদেরকে যে চাল দেয়া হয়েছে, একটি ওয়ার্ডে সর্বোচ্চ ২২টি পরিবারকে দিতে পেরেছি। কিন্তু ত্রাণ পাওয়ার মতো অনেক পরিবার আছে। অনেক খেটে খাওয়া মানুষজন আমার ইউনিয়নে আছেন। এখন সরকারি বরাদ্দ না এলে কি করার আছে।

প্রতি ইউনিয়নে দুই টন করে চাল দেয়ার তথ্য নিশ্চিত করে সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মহুয়া মমতাজ, আজকে নতুন করে আরও বরাদ্ধ দেয়া হবে। ইউএনও বলেন, যে পরিমাণ বরাদ্দ আসে তা দিয়ে সবাইকে একসঙ্গে সহায়তা দেয়া সম্ভব না। প্রতি ওয়ার্ড থেকে প্রায় এক হাজার জনের তালিকা আসে। কিন্তু আমরা প্রতিদিন দিতে পারি মাত্র ১০ পরিবারকে। তবে পর্যায়ক্রমে সবাইকেই দেয়া হবে বলেও আশ্বস্ত করেন ইউএনও।