সিরাজগঞ্জ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজে অ্যান্ড হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগসংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ওই প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের কথা বলে ২৫-৩০ জনের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। এমন প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে মেসার্স জুবাইদা কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
প্রতারিতদের দেয়া তথ্যমতে, প্রতিষ্ঠানটিতে ওয়ার্ড বয়, মালী ও গেটম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়ার কথা বলে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০-৭০ হাজার টাকা করে নেয়া হয়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি বলছে, যারা নিয়োগ পাবেন শুধু তাদের কাছ থেকেই জামানত হিসেবে ২০ হাজার টাকা করে নেয়া হচ্ছে। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, এ বিষয়ে কিছুই জানা নেই তাদের। যদি কেউ কারো সঙ্গে নিয়োগসংক্রান্ত লেনদেন করে থাকে তা নিজ দায়িত্বেই করতে হবে। কর্তৃপক্ষ এর দায় নেবে না।
ভুক্তভোগী সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার জহুরুল ইসলাম বলেন, শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ওয়ার্ড বয় পদে নিয়োগ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন মেসার্স জুবাইদা কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার হোসেনপুর মহল্লার আব্দুল জলিল। এজন্য তিনি ২০২০ সালের ১ অক্টোবর আমার কাছ থেকে ৭০ থেকে হাজার টাকা নেন। পাঁচ মাস পার হলেও চাকরিতে নিয়োগ না দিয়ে টালবাহানা করছেন। টাকাও ফেরত দিচ্ছেন না।
জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার পাঙ্গাসী ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগাঁতী গ্রামের এমদাদুল হক বলেন, আমি চাকরির জন্য ৭০ হাজার টাকা দিয়েছি। আমাকে ওয়ার্ড বয় পদে কাজের জন্য আইডি কার্ডও (পরিচয়পত্র) দেয়া হয়। পরে জানতে পারি ভুয়া।
জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার এরশাদ আলী ও
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার মোতালেব হোসেন একই অভিযোগ করেছেন। তারা বলেন, ওই প্রতিষ্ঠানে ওয়ার্ড বয়, মালী ও গেটম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়ার নামে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে নিয়েছেন আব্দুল জলিল ও তার অংশীদার মো. পিপুল হোসেন। কিন্তু অনেক দিন হয়ে গেলেও আমরা নিয়োগ পাইনি। চাকরিও
দিচ্ছে না, আবার টাকাও ফেরত দিচ্ছে না।
জানতে চাইলে মেসার্স জুবাইদা কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী মো. আব্দুল জলিল এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
আব্দুল জলিলের ব্যবসায়িক অংশীদার মো. পিপুল হোসেন বলেন, শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে প্রায় ১০০-১৫০ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যারা কাজ করবেন তাদের কাছ থেকে জামানত হিসেবে ২০ হাজার টাকা নেয়া হচ্ছে। নিয়োগকৃত জনবল কোথায় কাজ করছেন জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান।
তবে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে আমাদের এ-সংক্রান্ত কোনো অনুমোদন নেই। স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন কর্মকর্তার মাধ্যমে গোপনে এ নিয়োগ দিচ্ছি।
এ বিষয়ে শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আবুল কাশেম বলেন, এখন পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জনবল নিয়োগের কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে লোক নিয়োগের প্রশ্নই ওঠে না। বিষয়টি অভিযোগ আকারে এলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রতারকদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।
শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. আমিরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, এখানে কোনো লোক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়নি। যদি কেউ নিয়োগসংক্রান্ত কোনো প্রকার লেনদেন করে, কর্তৃপক্ষ তার দায় নেবে না।
তবে তিনি আরো বলেন, জনবল নিয়োগের কথা বলে টাকা লেনদেন করার বিষয়টি আমরাও শুনেছি। তবে কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি দিলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।










