গত শুক্রবার তাদের গ্রেফতার করা হয় বলে বিবিসি নেপালি সার্ভিসের বরাতে গতকাল প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে গণমাধ্যমটির বাংলা বিভাগ।

এতে বলা হয়েছে, নেপাল পুলিশের কাঠমান্ডু ভ্যালি ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন অফিস জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে গ্রেফতার ব্যক্তিরা একজন চীনা নাগরিকের চালানো একটি ‘স্ক্যাম সেন্টারে’ কর্মরত ছিলেন। ওই চীনা নাগরিক বর্তমানে পলাতক রয়েছেন, তাকে খুঁজছে পুলিশ।

পুলিশের রিপোর্ট অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃত বাংলাদেশী নাগরিকদের বেশির ভাগই আগে কম্বোডিয়ায় কাজ করেছেন। তারা জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে বলেছেন, কম্বোডিয়ায় পরিচয় হওয়া চীনা অপারেটররা তাদের নেপালে নিয়ে এসেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীদের আপত্তিকর ছবি পাঠিয়ে এ চক্রটি ভুক্তভোগীদের ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায় করত। চক্রটি স্থানীয় নেপালিদের নয়, বরং প্রধানত বাংলাদেশী এবং ভারতীয় নাগরিকরা ছিলেন তাদের টার্গেট।

নেপালি সংবাদমাধ্যম রাতোপাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাঠমান্ডুর একটি হোটেলে বসে ভুয়া অ্যাকাউন্টে নারীদের ব্ল্যাকমেইল ও হয়রানি করার অভিযোগে তাদের আটক করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত বাংলাদেশীরা নেপালে মূলত ‘ভিজিট ভিসা’ বা পর্যটন ভিসায় এসেছিলেন। তবে সেখানে আসার পর ভিসার উদ্দেশে বাইরে গিয়ে তারা সন্দেহজনক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। এমন একটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ গত ২৮ মে ঠমেলের ‘হোটেল এস’ এ আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করেন।

প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর পুলিশ জানায়, আটককৃত বাংলাদেশীরা ওই হোটেলের চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলার কয়েকটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে এ চক্র গড়ে তুলেছিলেন। তারা বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদেশী নারীদের নামে অসংখ্য ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করতেন। পরবর্তী সময়ে সেই অ্যাকাউন্টগুলোর মাধ্যমে বিদেশী নারীদের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল ও অর্থ আদায়সহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন মাজিদুল ইসলাম রিদয়, সাইফুল ইসলাম, আপন চন্দ্র সাহা, আব্দুল্লাহ আল জোবায়ের, আবুল হাসনাই এবং আল শাহরিয়ার, ফয়সাল, আজাদ হোসেন, আজমাইন, তামিম হাসান সৌরভ, জাকারিয়া জান্নাত, শাকিল আনোয়ার, বিল্লাল রাফাত, অমিত হাসান এবং ইসমাম হাসান স্বাধীন। গ্রেফতারকৃত বাংলাদেশীরা কাঠমান্ডুর ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে বসবাস করতেন।

কাঠমান্ডু ভ্যালি ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন অফিস ও স্থানীয় পুলিশ যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে নেপালের প্রচলিত আইনে অপরাধ ও বিদেশী নাগরিক আইন অনুযায়ী মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া তারা নেপালে অবস্থানকালীন কোনো আন্তর্জাতিক জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন কিনা, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশি রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

পুলিশ সুপার কার্কির মতে, সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মের মাধ্যমে নারীদের আপত্তিকর ছবি পাঠিয়ে এ চক্রটি ভুক্তভোগীদের ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায় করত।