লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে ঘুমন্ত স্বামীর পাশ থেকে শিশুপুত্রসহ নিখোঁজ অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার সকালে রামগতি থানার আলী আকবর হাজীরহাট এলাকা থেকে নিখোঁজ গৃহবধূ রোকসানা আক্তার ও তার ছয় বছরের ছেলে মেহেদী হাসানকে উদ্ধার করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন রামগতি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন। 

উদ্ধারের পর ওই গৃহবধূ জানান, স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে তিনি তাদের পুত্র মেহেদীকে নিয়ে স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে যান। তাকে কেউ অপহরণ করেনি বা কারো সাথে পালিয়েও যাননি তিনি। পারিবারিক কলহের কারণে তিনি এমনটি করেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার লক্ষ্মীপুরের রামগতি থানাধীন চর রমিজ ইউনিয়নের চর আফজাল গ্রামের দিনমজুর স্বামী আনোয়ার হোসেনের পাশ থেকে নিখোঁজ হন অন্তঃস্বত্ত্বা স্ত্রী রোকসানা আক্তার ও তাদের শিশুপুত্র মেহেদী হাসান। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে পেশায় দিনমজুর আনোয়ার হোসেন ও তার অন্তঃস্বত্ত্বা স্ত্রী রোকসানা রাতের খাবার শেষে ছেলেকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে তাদের প্রতিবেশী আনোয়ারের বড় ভাইয়ের স্ত্রী মারজাহান বেগম ঘুম থেকে উঠে আনোয়ারদের ঘরের দরজা খোলা দেখতে পান। তখন তিনি এগিয়ে গিয়ে দেখেন ঘরের মেঝেতে প্রচুর রক্ত ছড়িয়ে আছে। তা দেখে তিনি বাড়ির অন্যান্যদের ডাকেন। তারা এসে আনোয়ারকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখতে পান, কিন্তু তার স্ত্রী ব ছেলেকে বিছানায় বা আশপাশে কোথাও পাওয়া যায়নি। আনোয়ারকে তার স্ত্রী ও সন্তানের কথা জিজ্ঞেস করা হলেও তিনি কিছুই বলতে পারেননি। এদিকে প্রতিবেশিরা ঘরে এসে মেঝেতে রক্ত দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ করে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বামী, প্রতিবেশি ও গৃহবধূর বাবা-মাসহ সাত জনকে থানায় নিয়ে যায়। গতকাল বৃহস্পতিবার স্বামী আনোয়ার হোসেনকে আটক রেখে বাকিদের ছেড়ে দেয় পুলিশ।

এ ঘটনায় রামগতি থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন রোকসানার পিতা ননা মিয়া। পরে পুলিশ নোয়াখালী, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে আজ শুক্রবার সকালে রামগতি থানার আলী আকবর হাজীরহাট এলাকার রোকসানার এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে রোকসানা ও তার শিশুপুত্রকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।