সিরাজগঞ্জে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে সব ধরনের মুরগির দাম। বিশেষ করে জেলার বাজারগুলোয় সোনালি জাতের মুরগির (কক মুরগি) দাম প্রায় ১০০ টাকা বেড়েছে। মুরগির বাজার দরের ঊর্ধ্বগতিতে বিপাকে পড়েছেন ভোক্তারা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার বিধিনিষেধ কিছুটা কমে আসায় জেলায় বিয়েসহ সব ধরনের অনুষ্ঠান ও উদযাপন বেড়েছে। এতে বেড়েছে মুরগির চাহিদা। ফলে ব্যবসায়ীরা বাড়তি দামে মুরগি বিক্রি করছেন।
গতকাল জেলার বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, খুচরা পর্যায়ে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৫০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১২০ টাকা। আর দুই সপ্তাহ আগে ছিল ১১৫ টাকার মধ্যে। এ দুই সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে কেজিতে ২০ টাকা করে।
এছাড়া গত সপ্তাহে সোনালি জাতের মুরগি বাজারে ২৮০-৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এ জাতের মুরগির দাম বেড়ে ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দুই সপ্তাহ আগে এ মুরগির দাম ছিল ২৩০-২৫০ টাকা কেজি। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে সোনালি জাতের মুরগির দাম কেজিতে বেড়েছে প্রায় ৭০ টাকা। এক মাস আগেও এ মুরগি বিক্রি হয়েছিল ১৮০ টাকা দামে। এছাড়া প্রতি কেজি লেয়ার মুরগির দাম সপ্তাহের ব্যবধানে ২০ টাকা বেড়ে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
জেলা শহরের বড়বাজার, কালিবাড়ী বাজার, হাটিকুমরুল বাজার ও বিভিন্ন উপজেলার বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, পাইকারি বাজারেও প্রতিদিন কেজিপ্রতি ৫ টাকা করে বাড়ছে মুরগির দাম।
মুরগির দাম বাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন শহরের ব্যাংক পাড়ার অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা কোরবান আলী। তিনি বলেন, বাজারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। যে যেভাবে পারছে দাম বাড়াচ্ছে। এভাবে লাগামহীনভাবে দাম বাড়তে থাকলে মুরগি খাওয়া বাদ দিতে হবে।
পাইকারি বিক্রেতাদের দাবি, জেলায় সামাজিক অনুষ্ঠানের পরিমাণ বেড়েছে কিন্তু চাহিদার অনুপাতে মুরগির উৎপাদন বাড়েনি। তাছাড়া শীতে প্রান্তিক খামারিদের মুরগির বাচ্চা মারা গেছে। অনেক খামারি আর মুরগি পালন করছেন না। ফলে বড় খামারিরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।
শহরের বড় বাজারের পাইকারি মুরগি বিক্রেতা এরশাদ আলী বলেন, ছোট খামারে মুরগি সংকট। করোনা ও শীতে মুরগির দাম ছিল না। ফলে অনেক খামারি মুরগি পালন কমিয়ে দিয়েছেন। ফলে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
সিরাজগঞ্জ পোলট্রি খামার অ্যাসোসিয়েশন সূত্র জানায়, মুরগির বাচ্চা ও খাদ্যের দাম বাড়তি। পোলট্রি মুরগির খাবার প্রতি কেজি ১২ থেকে বেড়ে ৩৫-৪০ টাকা, পোলট্রি খাদ্য তৈরির উপকরণ ভুট্টা ১২-২৭ টাকা এবং মিটবোন মিল ৩০ থেকে বেড়ে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া এখন মুরগির বাচ্চার দাম বাড়তি। পোলট্রি মুরগির বাচ্চার দাম ২৫-৩০ টাকার মধ্যে থাকার কথা। বর্তমানে বাচ্চা মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা করে। সোনালি মুরগির বাচ্চার দাম ২০ টাকার নিচে থাকার কথা থাকলেও দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮-৩০ টাকা। জেলায় প্রায় ৬৫০ খামার রয়েছে। কিন্তু খাবারের বাড়তি দাম, বাচ্চা মরে যাওয়াসহ নানা সমস্যার কারণে প্রায় অর্ধেক খামারে উৎপাদন হচ্ছে না।
সিরাজগঞ্জ পোলট্রি খামার অ্যাসোসিয়েশনের নেতা নরেশ চন্দ্র ভৌমিক বলেন, বছরের সব সময় মুরগির দাম বাড়তি থাকে না। শীতের সময় নানা ধরনের ফ্লুর প্রাদুর্ভাব থাকে। করোনার সময় মুরগির দাম কম ছিল। খামারিরা লাখ লাখ টাকা লোকসান দিয়েছে। ফলে ঝুঁকি নিয়ে খামারিরা মুরগি বেশি উৎপাদন করেননি। করোনাপরবর্তী সময়ে হঠাৎ করেই মুরগির বাচ্চা ও খাবারের দাম বেড়েছে। করোনাপরবর্তী সময়ে সামাজিক অনুষ্ঠানেরও চাপ বাড়ছে। রমজানের ঈদের আগে মুরগির দাম কমবে বলে মনে হয় না।










