সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। সুরমা, কুশিয়ারা ও সারি নদীর পানি বিপত্সীমার ওপর দিয়ে বইছে। সুরমা নদী উপচে পানি প্রবেশ করেছে সিলেট নগরীতে। সীমান্তবর্তী উপজেলা কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কোম্পানীগঞ্জসহ সিলেট সদরের চারটি ইউনিয়ন বন্যার পানিতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গতকাল সকাল থেকে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট তলিয়ে গিয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এছাড়া পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অনেকে।

সরেজমিনে দেখা গিয়েছে, সুরমা নদীর কূল উপচে পানি ঢুকেছে নগরীর বিভিন্ন এলাকায়। তলিয়ে যায় সিলেটের উপশহর, সোবহানিঘাট, কালীঘাট, ছড়ারপাড়, শেখঘাট, তালতলা, মাছিমপুরসহ বিভিন্ন এলাকা। এসব এলাকার বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও বিভিন্ন স্থাপনায়ও পানি ঢুকে পড়ে। নগরীর সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার কালীঘাটে ঢুকে পড়ে পানি। ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য।

কালীঘাট এলাকার ব্যবসায়ী নীলাঞ্জন দাশ টুকু বলেন, সকালে এসে দেখি নদী উপচে দোকানের সামনে পানি এসে গেছে। দুপুর গড়ানোর আগেই দোকানের ভেতর পানি ঢুকে পড়েছে। এরপর পুরো এলাকা তলিয়ে যায়। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এত দ্রুত পানি বাড়তে থাকায় দোকানের মালপত্র সরিয়ে নিতে পারিনি।

এদিকে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় গোয়াইনঘাটের সব ইউনিয়ন পানিতে তলিয়ে গেছে। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। ইমরান আহমদ ডিগ্রি কলেজের একাডেমিক ভবনের নিচতলায় কোমর সমান পানি হয়ে গেছে। কানাইঘাট উপজেলা সদরের প্রধান বাজার গত তিনদিন কোমর পানিতে তলিয়ে রয়েছে। লোভা নদীর তীরবর্তী ইউনিয়নগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জৈন্তাপুরেও একই অবস্থা। কোম্পানীগঞ্জ ও সিলেট সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আঞ্চলিক সড়কগুলোয় পানি উঠে গেছে। ফলে এসব এলাকার যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি উঠে যাওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে গতকাল দুপুরে বিপত্সীমার ১ সেন্টিমিটার, সিলেট পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার, কুশিয়ারা নদীর পানি আমলশিদ পয়েন্টে বিপত্সীমার ৬৫ সেন্টিমিটার, ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ৮ সেন্টিমিটার, শেরপুর পয়েন্টে ৬ সেন্টিমিটার, গোয়াইনঘাটের সারি নদীর পানি বিপত্সীমা ছুঁয়ে এবং কানাইঘাটের লোভা নদীর পানি ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সিলেটের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী বলেন, বৃষ্টির পরিমাণ কমেছে। উজানে বৃষ্টি হচ্ছে, এ কারণে ঢল নামছে। ফলে নদনদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান বলেন, বন্যাকবলিত এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের খোঁজখবর রাখতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সব উপজেলা কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। পর্যাপ্ত ত্রাণসমাগ্রী বিতরণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

বন্যার পানিতে বিলে নৌকা ডুবে দুই যাত্রী নিখোঁজ

সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের রায়েরগাঁও থেকে কালারুকা আসার পথে নৌকাডুবির ঘটনায় দুজন নিখোঁজ রয়েছেন। রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয় খারইল বিলের মধ্যবর্তী স্থানে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। নিখোঁজরা হলেন, পুটামারা গ্রামের মৃত রিফাত আলীর পুত্র আছকন্দর আলী ও রায়েরগাঁও গ্রামের ইকন্দর আলীর পুত্র রজাখ আলী। গতকাল বিকাল পর্যন্ত তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। সিলেট মহানগর পুলিশের জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা খান জানান, নৌকাডুবির ঘটনায় গত রাতে নৌকায় থাকা ছয়জন উদ্ধার হলেও নিখোঁজ রয়েছেন দুজন। জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওবায়দুল্লাহ ইসহাক বরাত জানান, বন্যার কারণে রাতে নৌকাযোগে বাড়ি ফিরছিলেন নিখোঁজ দুজনসহ অন্যরা। রাতে ঝড়ের কবলে পড়ে স্থানীয় খাড়ইল বিলে নৌকাটি ডুবে গেলে তারা নিখোঁজ হন।

সিলেট ফায়ার সার্ভিসের লিডার শহিদুল ইসলাম জানান, দুজন ডুবুরি সোমবার সকাল থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে নিখোঁজ দুজনকে পাওয়া যায়নি।