ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় কয়েক যুগ ধরে আখের গুড় উৎপাদন হচ্ছে। স্থানীয়রা এটিকে লালি গুড় বলেন। চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২৫ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়েছে, যা থেকে ১০০ টনের বেশি গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। যার বাজারমূল্য দাঁড়াবে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকার বেশি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিজয়নগর উপজেলার বিষ্ণুপুর, দুলালপুর ও বক্তারমুড়া গ্রামের অর্ধশতাধিক পরিবার বাণিজিক্যভাবে লালি গুড় উৎপাদন করে আসছে। মূলত নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলে লালি গুড় তৈরি ও কেনাবেচা। প্রতি কেজি গুড় খুচরা বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়।

কৃষকের দাবি, প্রতি বছরই গুড় উৎপাদনে খরচ বাড়ছে। চলতি মৌসুমে আখ কাটা ও মাড়াইয়ের কাজে একজন শ্রমিককে দৈনিক ৭০০ টাকা মজুরি দিতে হচ্ছে, যা গত মৌসুমে ছিল ৫০০ টাকা। এছাড়া ঘানি টানার জন্য আগে যে মহিষ ৮০-৯০ হাজার টাকায় কেনা গেছে তা এবার ৩০-৪০ হাজার টাকা বেশি দামে কিনতে হয়েছে। এ কারণে অনেকে গুড় উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছেন।

বিজয়নগর উপজেলার দুলালপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলী ও রাকিব মিয়া জানান, কয়েক বছর আগেও তাদের গ্রামের অধিকাংশ মানুষ আখ চাষ করত কিন্তু দিন দিন আখচাষীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে। আখ কাটা ও মাড়াইকাজে শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে। ঘানি টানার জন্য লাখ টাকা বা তার বেশি দিয়ে মহিষ কিনতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে গুড় তৈরিতে যে খরচ পড়ছে, সে অনুযায়ী দাম মিলছে না।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর, কসবা ও আখাউড়া উপজেলার কিছু এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে আখ চাষ হয়। এসব আখের রস থেকে লালি গুড় উৎপাদন করেন চাষীরা।

এ বিষয়ে বিজয়নগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাব্বির আহমেদ জানান, লালি গুড়ে কোনো ধরনের ক্ষতিকর কেমিক্যাল মেশানো হয় না। ক্ষতিকর কোনো উপাদান ব্যবহার না করায় এর চাহিদা সারা দেশে। গুড় উৎপাদনে সংশ্লিষ্টদের উপজেলা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে পরামর্শ ও সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে।