তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হারুনুর রশিদ। তিনি বলেন, তিতাসের চোরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে বহিষ্কার করা হবে। অবৈধ সংযোগের কারণে বৈধ গ্রাহকরা চাহিদা মোতাবেক গ্যাস পাচ্ছেন না। তিতাসের অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন অভিযান অব্যাহত আছে। তবে অবৈধ সংযোগ বৈধ করার ক্ষমতা তিতাসের নেই। এ ক্ষমতা সরকারের। সরকার চাইলে অবৈধ সংযোগগুলোকে নতুন করে বৈধতার আওতায় আনতে পারে।

গতকাল দুপুরে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে এক গণশুনানিতে গ্রাহকদের অভিযোগ শুনে তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসব কথা বলেন।

গ্যাসের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, গ্যাসের দাম তিতাস বাড়ায় না। গ্যাসের দাম বাড়ালে তিতাসের লাভও হয় না। এটি একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। গ্যাস ক্রয় করে পেট্রোবাংলা। সেই গ্যাস আরো ছয়টি প্রতিষ্ঠানের মতো তিতাসও গ্রাহকদের মাঝে সরবরাহ করে। ইচ্ছা করলেই আমরা গ্যাস আনতে পারি না।

গণশুনানিতে আবাসিক গ্রাহকদের চেয়ে বাণিজ্যিক গ্রাহকদের উপস্থিতি ছিল বেশি। গ্রাহকরা তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে গ্যাস কম পাওয়া, বকেয়া পরিশোধের পর পুনরায় সংযোগ দিতে বিলম্ব করা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অশোভন ও অসহযোগিতামূলক আচরণের বিষয়গুলো গ্রাহকদের কথায় উঠে আসে। একই সঙ্গে দালাল চক্রের বিষয়টিও সামনে আনেন গ্রাহকরা।

দালালমুক্ত পরিবেশ চান মন্তব্য করে তিতাসের এমডি বলেন, তিতাসকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তিতাসের অসাধু কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী হয়তো আপনাদের কাছে ঘুষ চাইবে। তাকে ঘুষ দেয়ার কোনো কারণ নেই। আমি চোরদের বিরুদ্ধে যেমন যুদ্ধ ঘোষণা করেছি, তেমনি দালাল ও অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও। আমাকে নির্ভয়ে ও গোপনে বিষয়টি জানাবেন। প্রয়োজনে অসাধু কর্মকর্তাকে আটকে আমাকে খবর দেবেন। আমি আমার মেয়াদকালে যতটুকু করতে পারি সেটা করব।

গণশুনানিতে আরো উপস্থিত ছিলেন তিতাসের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মুনির হোসেন, নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক বিপণন ডিভিশন উপব্যবস্থাপনা (ডিএমডি) পরিচালক ইমাম উদ্দিন, উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) শাহাদাত হোসেন, নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক বিপণন বিভাগের ডিজিএম গোলাম ফারুক প্রমুখ।