দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় বেহাল হয়ে রয়েছে সাতক্ষীরা-যশোর মহাসড়কটি। সাতক্ষীরার ব্রজবাক্সা বাজার থেকে জেলার শেষ সীমানা কেরালকাতা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার অংশে অসংখ্য গর্ত সৃষ্টি হয়ে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বেহাল সড়কে প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে অসংখ্য যানবাহন।
এদিকে বেহাল এ রাস্তার কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন ভোমরা বন্দরে যাতায়াতকারী মালবোঝাই ট্রাক, ঢাকা-সাতক্ষীরা রুটে চলাচলকারী যাত্রীবাহী বাসের চালকরা।
অন্যদিকে বেহাল সড়কের কারণে যানবাহনের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ঘটছে দুর্ঘটনাও। তাই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কটির দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সড়কটি সংস্কার প্রকল্পের কাজ চলছে। কিন্তু দু-আড়াই মাস ধরে বর্ষা শুরুর পর থেকে সংস্কারকাজ বন্ধ রয়েছে। বৃষ্টি কমে গেলে আবারো সংস্কারকাজ শুরু হবে।
সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে নিয়মিত চলাচলকারী ট্রাকচালক হোসেন, মুনছুর আলী ও শুকুর আলী জানান, এ ব্যস্ততম সড়কের কলারোয়া উপজেলা সদরের ব্রজবাক্সা বাজার থেকে সড়কের ঠাকুরবাড়ী মোড় পর্যন্ত অসংখ্য বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এজন্য মালামাল বোঝাই ট্রাকের নিয়ন্ত্রণ ঠিক রেখে চালানো মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। প্রায়ই মালামাল বোঝাই ট্রাকের পাতি বা স্প্রিং ভেঙে ঘটছে বিভিন্ন দুর্ঘটনা। অথচ দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির এমন বেহালদশা দেখা দেয়ার পরও জরুরি সংস্কার করা হচ্ছে না।
যশোর-সাতক্ষীরা যাত্রীবাহী বাসচালক নজরুল ইসলাম জানান, যশোর-সাতক্ষীরার এ সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় যাত্রী নিয়ে চলাচল করা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বৃষ্টির দিনে এ মহাসড়ক দিয়ে গাড়ি চালানো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এ ব্যাপারে জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক মো. আনিসুর রহিম জানান, জেলার সবচেয়ে ব্যস্ততম মহাসড়ক হচ্ছে যশোর-সাতক্ষীরা। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার যানবাহন চলাচল করে থাকে। এরমধ্যে সাতক্ষীরা-ঢাকা কোচ, যশোর-সাতক্ষীরা যাত্রীবাহী বাস ও ভোমরা স্থলবন্দরের পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল করে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে এ সড়কের এমন বেহালদশা দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচলের বিষয়টি বিবেচনা করে দ্রুত ওই ভাঙাচোরা রাস্তা মেরামত করার দাবি জানান তিনি।
সাতক্ষীরা জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদ জানান, শুধু যশোর-সাতক্ষীরা নয়, জেলার বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যাত্রীবাহী বাস চলাচল মারাত্মক ঝুঁকি হয়ে পড়েছে। এরমধ্যে যশোর-সাতক্ষীরা, মুন্সীগঞ্জ-সাতক্ষীরা ও আশাশুনি-সাতক্ষীরা সড়ক অন্যতম। এসব সড়ক দিয়ে যাত্রীবাহী বাস চলাচল অনেক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বেহাল রাস্তার কারণে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। তাছাড়া যানবাহনের যন্ত্রপাতিও দ্রুত নষ্ট হচ্ছে।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ বণিক বার্তাকে বলেন, সড়কটির সংস্কার প্রকল্পের কাজ চলছিল। গত জুনে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও করোনার পাশাপাশি বর্ষার কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সংস্কারকাজ বন্ধ রাখে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত কাজ শেষ করার তাগিদ দেয়া হবে।










