দুই উপজেলা থেকে পৃথক সনদে ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে আমজাদ হোসেন নামে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলা ও বগুড়ার ধুনট উপজেলার ঠিকানা ব্যবহার করে এ ভাতা উত্তোলন করছেন তিনি। মুক্তিযোদ্ধাদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমে (এমআইএস) যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে এ অনিয়ম ধরা পড়ে। এ পরিপ্রেক্ষিতে অক্টোবর থেকে তার ভাতা বন্ধ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায় মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেন জন্মসূত্রে বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলার গোপালনগর ইউনিয়নের সাতটিকরী গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম রিয়াজ উদ্দিন। সাতটিকরীর পৈত্রিক বাড়িতেই তিনি পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। এরপর নিজের ও বাবার নাম ঠিক রেখে তিনি সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার মনসুরনগর ইউনিয়নের মাজনাবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা হিসেবে মুক্তিযোদ্ধার কাগজপত্র তৈরি করেছেন।

কাজিপুর উপজেলার মনসুরনগর ইউনিয়নের মাজনাবাড়ী গ্রামের ঠিকানায় আমজাদ হোসেনের কোনো সম্পত্তি বা বাড়িঘরের খোঁজ মেলেনি। এমনকি তাকে গ্রামের কেউই চেনে না।

মুনসুরনগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি মানিক মিয়া জানান, আমজাদ হোসেন কোনোদিন এ ইউনিয়নের বাসিন্দা ছিলেন না। আমরা তাকে চিনিও না। আমাদের ইউনিয়নের ঠিকানা ব্যবহার করে মুক্তিযোদ্ধা হয়ে উনি অন্যায় করেছেন।

আমজাদ হোসেনের কাগজপত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কাজিপুর উপজেলায় তার লাল মুক্তিবার্তা নম্বর ০৩১২০৬০০৭৬। সোনালী ব্যাংক কাজিপুর উপজেলা শাখায় তিনি ২০১১ সালের ৬ জুনে হিসাব খুলেছেন (হিসাব নম্বর ৪২০৭৭৩৪০৯৫০৪১)। ওই হিসাব নম্বর থেকে তিনি মাসিক মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার টাকা উত্তোলন করেন। এছাড়া একই নামে ধুনট উপজেলায় তার লাল মুক্তিবার্তা নম্বর ০৩০৬০৭০০৬৪। সোনালী ব্যাংক ধুনট উপজেলা শাখায় তিনি ২০১৪ সালের ৫ নভেম্বর হিসাব খুলেছেন (০৬১০১০০১৬৭২৪১)। ওই হিসাব নম্বর থেকেও তিনি মাসিক মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার টাকা উত্তোলন করেছেন। তিনি দুই উপজেলা থেকে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভাতা উত্তোলন করেছেন।

জানা গেছে, ২০১৯ সালের জুলাই থেকে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসিক ১২ হাজার টাকা ভাতা পাচ্ছেন। এর আগে ছিল ১০ হাজার টাকা। এর মধ্যে দুই ঈদে ১০ হাজার টাকা করে ২০ হাজার টাকা, ৫ হাজার টাকা বিজয় দিবসের ভাতা এবং ২ হাজার টাকা বাংলা নববর্ষ ভাতা পান বীর মুক্তিযোদ্ধারা। সব মিলিয়ে বছরের একজন মুক্তিযোদ্ধা পান ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা।

এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেন জানান, আমি ধুনট ও কাজিপুর উপজেলায় মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম। এ কারণে দুই উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তবে দুই উপজেলা থেকে সম্মানী ভাতা উত্তোলনের করা আমার ভুল হয়েছে। তিনি ক্ষমা চেয়ে অতিরিক্ত উত্তোলনকৃত অর্থ ফেরত দেয়ার জন্য মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন বলেও জানান।

কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কাজিপুর উপজেলা কমান্ডের প্রশাসক জাহিদ হাসান সিদ্দিকী জানান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেনের এমআইএস করা হয়েছে। তবে দুই উপজেলা থেকে ভাতা উত্তোলন করায় তার ভাতা স্থগিত করা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সিন্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ধুনট উপজেলা কমান্ডের প্রশাসক ও ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জয় কুমার মহন্ত বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেনের এমআইএস করা সম্ভব হয়নি। তবে তার মুক্তিযোদ্ধা ভাতা স্থগিত করে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।