ঝিনাইদহের শৈলকুপায় রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই নেতার সমর্থকদের মধ্যে গেল সপ্তাহ ধরে চলা দফায় দফায় সংঘর্ষে এক নারী নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে কয়েকটি গ্রামে, আর এতে দুপক্ষের অন্তত ১০টি বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, বেশ কিছুদিন ধরেই উপজেলা সারুটিয়া ইউনিয়নের ভাটবাড়িয়া গ্রামে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান মামুনের সমর্থক আফজাল বিশ্বাস এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা জুলফিকার আলীর সমর্থক আজিজুর রহমানের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। গেল এক সপ্তাহ ধরে তা সহিংস রূপ ধারণ করে। এর জের ধরে আজ সোমবার সকালে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

এতে বুকে প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আজিজুর রহমানের সমর্থক হিসেবে পরিচিত জালাল উদ্দিনের স্ত্রী সুফিয়া বেগম (৫৫) ঘটনাস্থলেই মারা যান। সংঘর্ষে আহত হন আরো অন্তত ৭ জন। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার ও কাতলাগাড়ি বাজার দখলকে কেন্দ্র করে সপ্তাহব্যাপী বাজার সংলগ্ন কৃষ্ণনগর, কৃত্তিনগর-ভুলুন্দিয়া, ব্রক্ষ্মপুর, পুরাতন বাখরবাসহ বিভিন্ন গ্রামে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া এক তরফা বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। আজ সোমবার কাতলাগাড়ি গরু বাজার দখল ও আধিপত্য বিস্তার করার জন্য চেয়ারম্যান গ্রুপের দলীয় সমর্থকরা বিভিন্ন গ্রামের মত ভাটবাড়িয়া গ্রামেও কর্মী চাঙ্গা করতে তৎপর থাকে। সকাল ৭টার দিকে আজিজুর রহমানের সমর্থক জালাল উদ্দিনের বাড়ি-ঘরে প্রতিপক্ষ মামুন গ্রুপের লোকজন হামলা চালায়। অতর্কিত হামলায় জালাল উদ্দিনের স্ত্রী সুফিয়া খাতুন ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।

সংঘর্ষে জালাল উদ্দিনের ছেলে সাগর, বিল্লাল, আকবর আলির ছেলে জাহিদুলসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়। এ সময় ভাটবাড়িয়া গ্রামের উভয়পক্ষে বেশকিছু বাড়ি-ঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর লুটপাট করা হয়। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে এলাকায় সংঘর্ষ এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ভাটবাড়িয়া গ্রামসহ কাতলাগাড়ি বাজার এলাকায় প্রয়োজনীয় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।