সিরাজগঞ্জে নয় মাসের নিজ শিশুপুত্রকে গলা কেটে হত্যার দায়ে মা মুক্তা খাতুনের (২১) যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সাথে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সিরাজগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফজলে খোদা মো. নাজির এই দণ্ডাদেশ প্রদান করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মুক্তা খাতুন জেলার শাহজাদপুর উপজেলার জোতপাড়া গ্রামের ধানকাটা শ্রমিক আব্দুল্লাহ আল মামুনের স্ত্রী এবং একই উপজেলার ছোট মহারাজপুর গ্রামের মোহাম্মাদ আলীর মেয়ে। রায় প্রদানের সময় আসামি মুক্তা খাতুন আদালতে উপস্থিতি ছিলেন।

হত্যাকাণ্ডের পর মাত্র সাড়ে ১০ মাসের মধ্যে এই আলোচিত হত্যা মামলার বিচার কাজ সমাপ্ত করলেন আদালত। দ্রুততম সময়ে মামলার রায় পেয়ে বাদী আব্দুল্লাহ আল মামুন সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

জজ আদালতের সরকার পক্ষের আইনজীবি (পিপি) আব্দুর রহমান খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ২৮ এপ্রিল রাত আনুমানিক ৯টার দিকে মুক্তা খাতুনের স্বামী  আব্দুল্লাহ আল মামুন ধান কাটার কাজের জন্য নওগাঁ জেলায় যাওয়ার কথা পাকাপাকি করতে পার্শ্ববর্তী   অপর এক শ্রমিকের বাড়িতে যায়। বাড়ির অন্য লোকজন এসময় তারাবির নামাজ পড়ছিলেন। এ সময় মুক্তা খাতুন নিজ ঘরে তার ৯ মাস বয়সী একমাত্র ছেলে মাহমুদুল্লাহ ওরফে মামুনের (৯) মুখে টেপ লাগিয়ে দেয়। পরে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে মাধ্যমে হত্যা করে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে শাহজাদপুর থানা পুলিশ পরদিন ২৯ এপ্রিল শাহজাদপুর থানা ঘাট এলাকা থেকে মুক্তা খাতুনকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করে। এই ঘটনায় মুক্তা খাতুনের স্বামী আব্দুল্লাহ আল মামুন মুক্তা খাতুনকে আসামি করে শাহজাদপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। 

পরবর্তীতে মুক্তা খাতুন তার শিশু পুত্রকে নিজ হাতে গলা কেটে করে হত্যার কথা স্বীকার করে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী প্রদান করেন। ১২ জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে মুক্তা খাতুনের উপস্থিতিতে আদালত মঙ্গলবার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন।