৭৮৫ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে দোহাজারী-কক্সবাজার নতুন রেলপথে দ্বিতীয় ননস্টপ আন্তঃনগর ট্রেন পর্যটক এক্সপ্রেস প্রথম যাত্রা শুরু করবে আগামীকাল ভোর ৬টা ১৫ মিনিটে। বুধবার (১০ জানুয়ারি) ট্রেন চলাচলের জন্য এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

ঢাকা রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, বুধবার সকালে নতুন ট্রেন পর্যটক এক্সপ্রেস ভোর সোয়া ৬টায় ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন ছেড়ে যাবে। এ বিষয়ে স্টেশন কর্তৃপক্ষ সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা শাহ আলম কিরণ শিশির বলেন, ট্রেনের মোট আসন ৭৮৫টি। রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সবকটি আসন বিক্রি হয়ে গেছে। এর আগে ১০ জানুয়ারি যাত্রার জন্য পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছিল গত ৩ জানুয়ারি সকাল ৮টায়।

বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চিফ অপারেটিং সুপারিন্টেনডেন্ট মো. শহিদুল ইসলাম জানান, যাত্রীদের চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখে কক্সবাজার রুটে নতুন একজোড়া বিরতিহীন আন্তঃনগর ট্রেন পর্যটক এক্সপ্রেস ১০ জানুয়ারি থেকে চলাচল করবে। বিরতিহীন ট্রেনটি ঢাকা ও বিমানবন্দর স্টেশনের পর সরাসরি চট্টগ্রাম স্টেশনে থামবে। এরপর ট্রেনটি সরাসরি কক্সবাজার স্টেশনে গিয়ে থামবে। মাঝখানে কোনো স্টেশনে থামবে না এ ট্রেন।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের যাত্রীদের জন্য কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের মতো এ ট্রেনেও একটি নন-এসি এবং একটি এসি কোচ বরাদ্দ আছে। এর মধ্যে এসি কোচে ৫৫টি এবং নন-এসি কোচে ৬০টি আসন থাকবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে কক্সবাজারের নন-এসি শ্রেণীর শোভন চেয়ার আসনের ভাড়া ৬৯৫ টাকা ও এসি শ্রেণীর স্নিগ্ধা আসনের ভ্যাটসহ ভাড়া এক হাজার ৩২৫ টাকা। বিমানবন্দর স্টেশন থেকেও একই ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম স্টেশনের নন-এসি শ্রেণীর শোভন চেয়ার আসনের ভাড়া ৪৫০ টাকা ও এসি শ্রেণীর স্নিগ্ধা আসনের ভ্যাটসহ ভাড়া ৮৫৫ টাকা। বিমানবন্দর স্টেশন থেকেও একই ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার স্টেশন পর্যন্ত নন-এসি শ্রেণীর শোভন চেয়ার আসনের ভাড়া ২৫০ টাকা এবং এসি শ্রেণীর স্নিগ্ধা আসনের ভ্যাটসহ ভাড়া ৪৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কক্সবাজার থেকে ফিরতি পথেও একই ভাড়ার হার কার্যকর করা হয়েছে।

পর্যটক এক্সপ্রেসের ঢাকাগামী ট্রেনের নম্বর ৮১৫ এবং কক্সবাজারগামী ট্রেনের নম্বর ৮১৬। ট্রেনের রেকে থাকবে মোট ১৬টি কোচ। মোট আসন থাকবে ৭৮৫টি।

কক্সবাজার স্টেশন থেকে ৮১৫ নম্বর ট্রেনটি রাত ৮টায় ছেড়ে চট্টগ্রাম স্টেশনে পৌঁছাবে রাত ১০টা ৫০ মিনিটে। ২৫ মিনিট বিরতি দিয়ে ট্রেনটি চট্টগ্রাম স্টেশন ছাড়বে রাত ১১টা ১৫ মিনিটে। এরপর বিরতিহীনভাবে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছাবে ভোর সাড়ে ৪টায়।

অন্যদিকে ৮১৬ নম্বর ট্রেনটি ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন থেকে ভোর ৬টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে বিমানবন্দর স্টেশনে পৌঁছাবে ভোর ৬টা ৩৮ মিনিটে। সেখানে ৫ মিনিট বিরতি দিয়ে ভোর ৬টা ৪৩ মিনিটে বিমানবন্দর স্টেশন ছাড়বে। এরপর বিরতিহীনভাবে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে বেলা ১১টা ২০ মিনিটে। সেখানে ২০ মিনিট বিরতি দিয়ে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রাম স্টেশন ছাড়বে। কক্সবাজার স্টেশনে পৌঁছাবে বিকেল ৩টায়। এক্ষেত্রে ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাত্রাপথে ট্রেনে মোট সময় লাগবে ৯ ঘণ্টা ১৫ মিনিট। কক্সবাজার থেকে ঢাকা যাত্রাপথে ট্রেনে মোট সময় লাগবে ৮ ঘণ্টা ৩০ মিনিট।