সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার পল্লীতে দুই শিশুসহ এক দম্পতিকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। আজ বৃহস্পতিবার ভোররাতে উপজেলার হেলাতলা ইউনিয়নের খলসি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হত্যাকাণ্ডে পরিবারটির বেঁচে যাওয়া পাঁচ মাস বয়সী শিশু কন্যা মারিয়ার দায়িত্ব নিয়েছেন জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল।

নিহতরা হলেন, খলসি গ্রামের শাহাজান আলীর ছেলে মাছ চাষী শাহিনুর রহমান (৪০), তার স্ত্রী সাবিনা খাতুন (৩০), ছেলে সিয়াম হোসেন মাহি (৯) ও মেয়ে তাসনিম (৬)। খবর পেয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এদিকে এই নৃশংস হত্যাকান্ডের ক্লু উদ্ধারে পারিবারিক কলহ, মাদক ব্যবসা ও পুর্বশত্রুতার জেরকে সামনে রেখে এগোচ্ছে পুলিশ।

স্থানীয়রা জানান, ভোরে তারা ওই বাড়ির চিৎকার চেচামেচি শুনে ছুটে যান। পরে দরজা খুলে দেখতে পান গৃহবধু সাবিনা খাতুন ও তার দুই শিশু তাসনিম ও সিয়াম হোসেন মাহী একঘরে এবং আরেক ঘরে শাহীনুরের গলা কাটা মরদেহ। তাদের ধারণা হত্যাকারীরা সিঁড়ির ঘর দিয়ে ঢুকে তাদের হত্যা করে দরজায় শিকল দিয়ে চলে যায়।

নিহত শাহিনুর রহমানের ছোট ভাই রায়হানুল ইসলাম জানান, মা ও বড় ভাইয়ের পরিবারের পাঁচজনসহ তারা সাতজন একই বাড়িতে থাকতেন। তার মা কাল আত্মীয়ের বাড়িতে ছিলেন। তিনি (রায়হানুল) ছিলেন পাশের ঘরে। ভোরে পাশের ঘর থেকে তিনি বাচ্চাদের গোঙানির শব্দ শুনতে পান। তাৎক্ষণিক এগিয়ে গিয়ে দেখেন ঘরের বাইরে থেকে আটকানো। দরজা খুলে দেখা যায় বিভৎস দৃশ্য। এর কিছুক্ষণ পর শিশু দুটিও মারা যায়।

রায়হানুল ইসলাম আরও জানান, তার বড়ভাই শাহীনুর ইসলাম নিজস্ব ৭-৮ বিঘা জমিতে পাঙ্গাস মাছ চাষ করতেন। গত ২২ বছর ধরে তাদের পারিবারিক সাড়ে ১৬ শতক জমি নিয়ে নিকট প্রতিবেশী ওয়াজেদ কারিগরের ছেলে আকবরের সাথে মামলা চলছিল। এই মামলা ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকান্ড ঘটে থাকতে পারে বলে তার ধারণা।


সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় নিহত শাহীনুরের বোন আছিয়া খাতুন বুক চাপড়ে আহাজারি করে বলছেন, আমার মা ও আরেকটা ভাই এখানে থাকলে তাদেরও খুন করতো সন্ত্রাসীরা। তিনি খুনিদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

স্থানীয় হেলাতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, অত্যন্ত নৃসংশ ও বর্বরোচিতভাবে একই পরিবারের চারজনকে খুন করা হয়েছে। হত্যাকারীরা চারজনকে গলা কেটে বাইরে থেকে দরজা আটকে দিয়ে পালিয়ে যায়।

তিনি আরো বলেন, স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে শত্রুতা গড়ে উঠছিলো নিহত শাহীনুরের। মাদকের বিরুদ্ধে সবসময় প্রতিবাদ করতেন শাহীনুর। ফলে হত্যাকান্ডের সাথে মাদক ব্যবসায়ীদের যোগসূত্র থাকতেও পারে বলে ধারণা তার।

এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহামন সাতক্ষীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের জানান, পারিবারিক বিরোধ কিংবা শত্রুতার জের ধরে এই ঘটনাটি ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং ঘটনার সাথে জড়িত আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টাসহ অন্যান্য পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রাখা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে হত্যা কাজে ব্যবহাহৃত ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত এসব অস্ত্র আলামত হিসেবে জব্ধ রাখা হবে।

এদিকে বেঁচে যাওয়া শিশুর দায়িত্ব নিয়েছেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে তিনি শিশুটিকে কোলে নিয়ে তার সার্বিক দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেন। আপাতত স্থানীয় নারী ইউপি সদস্য নাসিমা খাতুনকে দেখভালের দায়িত্ব দেন জেলা প্রশাসক। পরবর্তীতে পরিবারের স্বজনদের কেউ দাবি করলে আইনগতভাবে সমাধান করা হবে জানান তিনি।