মহানগরীর আটরা-গিলাতলা ইস্টার্ণ গেট এলাকায় দুগ্রুপে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ আরো একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। এ নিয়ে এ ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হলো।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে মশিয়ালী গ্রামে থমথম পরিবেশ বিরাজ করছে।
খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, গুলিবিদ্ধ মো. সাইফুল ইসলাম (২৭) রাতে খুমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তিনি মো. সাইদুল শেখের ছেলে। এর আগে প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত দু’জন হলেন আটরা- গিলাতলার মশিয়ালী এলাকার মৃত মো. বারিক শেখের ছেলে মো. নজরুল ইসলাম (৬০) ও একই এলাকার মো. ইউনুচ আলীর ছেলে গোলাম রসুল (৩০)।
গুলিবিদ্ধ অন্যরা হলেন- খানজাহান আলী থানামগ্রামের মৃত শফিউল্লাহ শেখের ছেলে আফসার শেখ (৬৫), রজব আলী শেখের ছেলে ইব্রাহিম শেখ (২৬), নজরুল শেখের ছেলে জুয়েল শেখ (৩৫), মৃত আলকাস শেখের ছেলে রানা শেখ (২২), আফসার শেখের ছেলে রবি শেখ (৪০), আকরাম শেখের ছেলে শামীম শেখ (২৫)। এদেরকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে হত্যাকারী সন্দেহে মশিয়ালী গ্রামে মৃত হাচান আলী শেখের পুত্র জাকারিয়া, জাফরিন ও মিলটনের বসতবাড়ি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান জ্বালিয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। রাতে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যেয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মলিয়ালী গ্রামের এক ব্যক্তিকে গুলিসহ আটক করে পুলিশ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যার পর কয়েকজনের বাকবিতণ্ডা হয়। পরবর্তীতে রাত সোয়া ৮টার দিকে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রলীগের জাফরিন, তার ভাই আ’লীগের জাকারিয়া এবং মিল্টনের মশিয়ালীর বাড়িতে হামলা হয়। এ সময় জাফরিন গ্রুপের সাথে গ্রামবাসীর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এক পর্যায়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে এক পক্ষের এলোপাতাড়ি গুলিতে ৯ জন আহত হয়। এর মধ্যে নজরুল ইসলাম, গোলাম রসুল ও সাইফুল ইসলাম মারা যান।
স্বজনদের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাড়ির পাশে গুলি রেখে মজিবর শেখ নামের একজনকে পুলিশের হাতে তুলে দেয় প্রতিপক্ষরা। ওই ঘটনার জের ধরে সোয়া ৮টার দিকে তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে হাতাহাতি হয়। এ সময় প্রতিপক্ষের অস্ত্রধারীরা গুলি চালালে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেন মশিয়ালী আলিয়া মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনে খানজাহান আলী থানা আ’লীগের সাবেক সহ-প্রচার সম্পাদক মোঃ জাকারিয়া সভাপতি পদে পরাজিত হন। এ ঘটনার জেরধরে স্থানীয়দের সাথে তার বিরোধের সূত্রপাত হয়। ঘটনাস্থলে তিনি ও তার ছোট ভাই জাফরীন এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
নিহত নজরুল ইসলামের আত্মীয় মোঃ তাসাদ্বর আলী বলেন, সভাপতি নির্বাচনে হেরে গিয়ে আমার খালু (নজরুল) ও এলাকার কয়েকজনকে জীবনে শেষ করে দেবার হুমকি দিয়েছিলেন। সেটাই পূরণ করলো ঘাতকরা।
কেএমপি’র অতিরিক্ত উপ-কমিশনার সোনালী সেন বলেন, এ ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।









