নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের সাদীপুর ইউনিয়নের গজারিয়া পাড়া গ্রামে গৃহবধূ জুনু আক্তারকে নির্যাতনে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। গতকাল সকালে পুলিশ ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে এ হত্যাকাণ্ডকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা চলছে বলে নিহতের স্বজন অভিযোগ করেছেন।

জানা যায়, উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের মুছারচর গ্রামের আলী হোসেনের মেয়ে জুনু আক্তারের সঙ্গে পাশের সাদীপুর ইউনিয়নের গজারিয়া পাড়া গ্রামের দাইয়ানের ছেলে কবির হোসেনের চার বছর আগে বিয়ে হয়েছে। তাদের দুই বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। স্বামী কবির হোসেন বিভিন্ন সময়ে জুনু আক্তারকে বাবার বাড়ি থেকে যৌতুকের টাকা আনার জন্য মারধর করত। এ নিয়ে শুক্রবার রাতে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়েছে। একপর্যায়ে গৃহবধূ জুনুু আক্তারকে স্বামী কবির হোসেন, শ্বশুর দাইয়ান ও শাশুড়ি শারীরিক নির্যাতন করে হত্যা করে বলে দাবি করেন গৃহবধূর ভাই সোলায়মান মিয়া। গৃহবধূ জুনু আক্তারের মৃত্যু নিশ্চিত হলে বাড়ির সবাই রাতের আঁধারে পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়ার আগে গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে আশপাশের লোকজনের কাছে প্রচার করে নিহতের শ্বশুরবাড়ির লোকজন।

নিহত গৃহবধূর বড় ভাই সোলায়মান মিয়া জানান, গতকাল ভোরে একটি অচেনা মোবাইল নম্বর থেকে তার বোনের মৃত্যুর সংবাদ দেয়া হয়েছে। যৌতুকের জন্য তার বোনকে প্রায়ই মারধর করা হতো। তিনি তার বোনের হত্যাকারীকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

তিনি আরো জানান, নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এতেই প্রমাণ হয়েছে নির্যাতন করে তার বোনকে হত্যা করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, আত্মহত্যার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তালতলা ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ মো. জাকির হোসেন জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।