সিলেটে কোরবানির পশুর হাটগুলোয় বন্যার প্রভাব পড়েছে। ঈদের একদিন আগেও জমে ওঠেনি বাজার। অস্থায়ী হাটগুলো গরুর অভাবে খাঁ-খাঁ করছে। যেগুলো উঠেছে দাম চড়া। অভিযোগ রয়েছে গরু মালিকদের হয়রানিরও। গতকাল পর্যন্ত বিভিন্ন অস্থায়ী হাটের গরুশূন্যতা ছিল চোখে পড়ার মতো।
সরেজমিনে বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখা যায়, নগরীর মদিনা মার্কেট এলাকায় স্থাপিত পশুর হাটে মাত্র ৩০-৩৫টি গরু রয়েছে। তাও গাড়ি থেকে জোরপূর্বক ইজারাদারের লোকজনের নামিয়ে নেয়া। যদিও পাঁচ শতাধিক গরু রাখার ব্যবস্থা করেছেন সংশ্লিষ্টরা। শহিদুল ইসলাম নামের এক ব্যাপারী বলেন, তিনি একটি ট্রাকে করে আটটি গরু সিলেটের অন্যতম পশুর হাট কাজীরবাজারে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। অস্থায়ী হাটের স্বেচ্ছাসেবকরা জোরপূর্বক নামিয়ে নিয়েছে। বাধ্য হয়েই সেখানে আছেন। তবে ক্রেতা একেবারেই নেই।
নগরীর নতুন টুকের বাজার হাটে গিয়ে দেখা যায়, বিশাল মাঠে প্রায় অর্ধশত গরু। মাঠের বড় অংশই এখনো ফাঁকা। সিলেটের সবচেয়ে বড় পশুর হাট কাজীরবাজারে গরু, ছাগল এলেও অন্যবারের চেয়ে কম বলে জানিয়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা।
সাধারণত কোরবানির ঈদে স্থানীয় গরু ছাড়াও নাটোর, কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ট্রাকে করে অসংখ্য গরু আসে। ফলে ঈদের দুই-তিনদিন আগে নগরীর স্থায়ী, অস্থায়ী বাজারে প্রচুর গরু থাকে। এবার আর সেই দৃশ্য নেই।
কাজীরবাজারে গরু কিনতে আসা শামসুল ইসলাম জানান, বিগত ঈদে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে ব্যবসায়ীরা গরু নিয়ে বসে থাকতেন। কিন্তু এবারের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। এর একমাত্র কারণ সিলেটের বন্যা। দেশের অন্যান্য স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা সিলেটে আসার সাহস পাচ্ছেন না। কারণ তারা মনে করছেন বন্যা পরিস্থিতিতে ট্রাক ভাড়া করে গরু নিয়ে সিলেটে এসে শেষ পর্যন্ত সুবিধা করতে পারবেন না। ফলে এবার সিলেটে গরুর সংখ্যা কম। এছাড়া সুনামগঞ্জসহ অন্যান্য এলাকায় এখনো পানি থাকায় সেখান থেকেও পর্যাপ্ত গরু আসছে না। ব্যবসায়ীরা গরুর দাম বেশি হাঁকছেন বলে জানান।
ঝালোপাড়ার অস্থায়ী হাটের ইজারাদার মো. শাহিন আহমদ বলেন, ১০ বছর ধরে এখানে হাট বসে। ঈদের তিন-চারদিন আগে পুরো হাট ভরে রাস্তায় গরু রাখতে হতো। কিন্তু এবার একটি গরুও আসেনি। আমরা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা বলছে, সিলেটে এখনো বন্যা। বিক্রি না হলে সেই গরু আবার ফিরিয়ে নিতে হবে।
অন্যদিকে কেউ কেউ আবার সিলেটে গরু নিয়ে এসেছেন। কাজীরবাজারে কুষ্টিয়া থেকে গত বছর ১১০টি গরু নিয়ে এসেছিলেন ইসহাক মিয়া। তিনি বলেন, ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে কিছু গরু নিয়ে এসেছেন।
নগরীর নগরের চৌকিদেখি পয়েন্টে স্থাপিত অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারাদার শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া বলেন, বন্যা পরিস্থিতিতে অনেক ব্যবসায়ী সিলেট আসতে চাচ্ছেন না এটা সত্য। আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বর্তমান পরিস্থিতি অবহিত করার পর অনেকেই গরু নিয়ে আসছেন।
ঝালোপাড়ার অস্থায়ী হাটের ইজারাদার মো. শাহীন আহমদের অভিযোগ, তাদের হাটে যেসব গরুবাহী ট্রাক আসার কথা সেগুলো চণ্ডিপুল ও হুমায়ুন রশিদ চত্বর থেকে জোর করে মাছিমপুরের অনুমোদনহীন হাটে নিয়ে যাচ্ছে কিছু মানুষ।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) বিএম আশরাফ উল্লাহ তাহের জানান, পুলিশ সর্বদা সতর্ক। গরুমালিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে পুলিশ। কেউ জোরপূর্বক গরু আটকে দেয়ার অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অন্যদিকে নগরীতে অনুমোদনহীন হাট বসানোরও অভিযোগ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিধায়ক রায় চৌধুরী বলেন, জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে নগরীতে সাতটি হাট অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। মাছিমপুরে কোনো হাটের অনুমোদন দেয়া হয়নি। আমরা সেখানে হাট স্থাপনের কোনো প্রস্তাবও করিনি। শুনতে পাচ্ছি সেখানে হাট বসেছে। এটা অবৈধ, জেলা প্রশাসন এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে।
সিলেটের স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, অবৈধ হাট বসানোর ব্যাপারে কঠোর জেলা প্রশাসন। তিনি বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।










