ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারী ও তার সদ্য ভুমিষ্ঠ হওয়া পিতৃ পরিচয়হীন কন্যা সন্তানের সার্বিক দ্বায়িত্ব নিতে জেলা প্রশাসক নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ শনিবার সন্ধ্যায় ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ এ তথ্য জানিয়েছেন। সেই সাথে ওই প্রতিবন্ধীর আশ্রয়দাতার সহযোগিতারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, আনুমানিক ২২-২৩ বছরের পরিচয়হীন এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারী কালীগঞ্জ উপজেলার কোলাবাজারে ঘোরাফেরা করতেন। তিনি সপ্তাহ খানেক আগে মায়াধরপুর গ্রামের রাস্তার পাশে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে ছিলেন। চোখ মেলে তাকাতে পারলেও তার ছিল না কোন নড়াচড়া। রাস্তার পাশে পড়ে থাকলেও কেউ এগিয়ে আসেনি তার উদ্ধারের জন্য। পরে ওই গ্রামের আব্দুর রশিদ, আমজাদ আলীসহ বেশ কয়েকজন যুবক তাকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তবে তার চিকিৎসা ভার কেউ বহন করছিলেন না। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর জানা যায় তিনি গর্ভবতি। পরে বিবেকের তাড়নায় মায়াধরপুর গ্রামের দিনমজুর আমজাদ-ছাকিরন দম্পতি প্রতিবন্ধী তার দ্বায়িত্ব গ্রহণ করেন। নিজের বাড়িতে আশ্রয় দিয়ে সেবা যত্ন শুরু করেন। গত শুক্রবার কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিবন্ধী একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম দেন।

কালীগঞ্জ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার আফসানা পারভিন জানান, ভুমিষ্ট হওয়ার আগে স্বাভাবিক না থাকায় অপারেশনের মাধ্যমে সন্তানটি বের করা হয়েছে। তবে মা ও নবজাতক এখন সুস্থ আছেন।

জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ জানান, আশ্রয় দেওয়া ও সন্তান প্রসবের খবরটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরলে তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টিগোচর হয়। তিনি জেলা প্রশাসককে তার সার্বিক সহযোগিতার নির্দেশ প্রদান করেন।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ কালীগঞ্জ হাসপাতালে যান। গিয়ে সন্তানকে তুলে নেন নিজের কোলে। চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতাও করেন। জেলা প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিশুটির সার্বিক দায়িত্ব গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়াও তার আশ্রয়দাতা দিনমজুর আমজাদ আলীকেও সহযোগিতার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাকে ব্যাটারি চালিত ভ্যানসহ অন্যান্য সহযোগিতা প্রদানের জন্য আমরা কাজ শুরু করেছি।