সারা বাংলাদেশে স্রোত তৈরি হয়েছে। এ অবস্থা দেখে কিছু মানুষের মাথা গরম হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সাতক্ষীরা সরকারি বিদ্যালয় মাঠে গতকাল আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। কোনো শিক্ষিত চোরকে আর জনগণের সম্পদ খেয়ে ফেলতে দেয়া হবে না বলেও অঙ্গীকার করেন জামায়াত আমির।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘দেশের যুবকরা রায় দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে, আমরা ইনসাফের সঙ্গে আছি। সংস্কার যারা মনে-প্রাণে চাইবে, আমরা তাদের সঙ্গে আছি। তারা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে পুরনো ও নতুন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে। অলরেডি পাঁচ-পাঁচটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা জানিয়ে দিয়েছে।’

যুবসমাজ আর বস্তাপচা রাজনীতি দেখতে চায় না মন্তব্য করে জামায়াত আমির বলেন, ‘ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে, পরিবর্তনের পক্ষে, বস্তাপচা রাজনীতির বিপক্ষে, দুর্নীতির বিপক্ষে, ফ্যাসিবাদের বিপক্ষে, জুলুমতন্ত্রের বিপক্ষে, মা-বোনদের বেইজ্জত করার বিপক্ষে সারা দেশে স্রোত তৈরি হয়েছে। কিছু মানুষের এ অবস্থা দেখে মাথা গরম হয়ে গেছে।’

সাতক্ষীরাকে সাড়ে ১৫ বছর সৎমায়ের সন্তানের মতো রাখা হয়েছে অভিযোগ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আপনারা (উপস্থিত জনতা) যদি সাতক্ষীরার চারটা আসন আমাদের উপহার দেন, তবে মদিনার শাসনের আদলে একটি সুশাসন কায়েম করার জন্য আমরা চেষ্টা করব। আল্লাহ যদি সুযোগ দেন, তবে কোনো শিক্ষিত চোর আপনাদের সম্পদ খেয়ে ফেলতে পারবে না, খেয়ে ফেলতে দেয়া হবে না। এ দুঃখী বাংলাদেশের সম্পদ লুণ্ঠন করে যারা ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। আমরা সুযোগ পেলে ওদের পেটের ভেতর হাত ঢুকিয়ে জনগণের সম্পদ বের করে আনব। জনগণের সম্পদ লুণ্ঠনকারীর ব্যাপারে আমাদের কোনো দয়া নেই, ক্ষমা নেই। এখানে আমরা কঠোর।’

জামায়াতের আমির আরো বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আমরা উত্তম আচরণ করব। তাদের কাছ থেকে উত্তম আচরণ আশা করি। অন্য কোনো রাষ্ট্রকে প্রভু হিসেবে আসতে দেয়া হবে না।’

সাতক্ষীরার চারটি আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দিয়ে পরিচয় করিয়ে দেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান। জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি আজিজুর রহমানের সঞ্চালনায় জনসভায় দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সাতক্ষীরা-১ আসনের প্রার্থী মুহাম্মদ ইজ্জতউল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ আসনের প্রার্থী মুহাদ্দিস আবদুল খালেক, সাতক্ষীরা-৩ আসনের প্রার্থী মুহা. রবিউল বাশার ও সাতক্ষীরা-৪ আসনের প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ছাড়া ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের নেতারা বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন।

সাতক্ষীরায় জনসভার পর বিকালে খুলনায় ঐতিহাসিক সার্কিট হাউজ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান। খুলনার ছয়টি আসনের ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দিয়ে পরিচয় করিয়ে দেন তিনি।

খুলনার শিল্প ও কৃষি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিগত সরকারের ভুলনীতি ও লুটপাটে একের পর এক শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়েছে। জামায়াত জনগণের রায়ে রাষ্ট্রক্ষমতা পেলে বন্ধ মিল-কারখানা চালুর পাশাপাশি নতুন নতুন কারখানা স্থাপন হবে।’

বিএনপিকে ইঙ্গিত করে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমাদের একটি বন্ধু সংগঠন ফ্যামিলি কার্ড দেয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেছে, এটা মায়েদের হাতে দেবেন। তারা একদিকে দিচ্ছেন ফ্যামিলি কার্ড, আরেক দিকে আমার মায়ের গায়ে হাত দিচ্ছেন। এ দুটি একসঙ্গে চলে না। দেশবাসীর কাছে পরিষ্কার হয়ে গেছে—এ দেশের মানুষ, মাটি ও সম্পদ, ইজ্জত কার কাছে নিরাপদ। সেটা এখন আর কারো কাছে বুঝতে বাকি নেই।’

এর আগে সকালে যশোর ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে নতুন রাজনীতি নিয়ে আসব, যেখানে পরিবারতন্ত্রের রাজনীতি থাকবে না। আমাদের দলের বিজয় চাই না, আমরা দেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই।’

ক্ষমতায় গেলে যশোর শহরকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা হবে জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘যশোর মেডিকেল কলেজে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের কাজও করা হবে।’