ধর্ষণ মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের জামিন বতিল করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গতকাল নারায়ণগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নাজমুল হক শ্যামলের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান কাউন্সিলর খোরশেদ। বিচারক জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী সাইদুর রহমান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, যুবদল নেতা খোরশেদের দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করা সাঈদা আক্তার শিউলি গত বছরের ২৫ আগস্ট তার বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিয়ের নামে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নারায়ণগঞ্জকে নির্দেশ দেন। গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর পিবিআই মামলার তদন্তভার নেয়। গত ৮ নভেম্বর খোরশেদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্তে ধর্ষণের সত্যতা পেয়ে প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করে পিবিআই। প্রতিবেদন দাখিলের পর খোরশেদকে গ্রেফতার করতে আদালত ওয়ারেন্ট ইস্যু করলে হাইকোর্ট থেকে ছয় সপ্তাহের জামিন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। নির্বাচনের দুদিন আগে গত ১৪ জানুয়ারি জামিনের মেয়াদ শেষ হলেও আর আত্মসমর্পণ করেননি খোরশেদ।
তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আবুল কাউসার আশাকে বন্দরের নীলয় আহমেদ বাবু হত্যা মামলায় জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুন্সি মশিউর রহমানের আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিনের প্রার্থনা করলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১ মে রাত ৯টার দিকে নিলয় আহমেদ বাবুকে ধরতে যায় বন্দর থানার এসআই রওশন ফেরদৌসের নেতৃত্বে একদল পুলিশ। পুলিশের ধাওয়ায় বাবু বাড়ির পাশের পুকুরে ঝাঁপ দেন। এর পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। চারদিন পর ৪ মে দুপুরে বাবুর মরদেহ ভেসে ওঠে পুকুরে। খবর পেয়ে পুলিশ সদস্য ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা মরদেহ উদ্ধার করেন। তবে হঠাৎ করেই পাল্টে যায় মামলা। চারদিন পর নিহত বাবুর মা লিলি বেগম বাদী হয়ে কাউন্সিলর আবুল কাউছার আশাকে হুকুমের আসামি করে ১০ জনের বিরুদ্ধে তার ছেলেকে হত্যা ও গুমের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন।










