যশোরের চৌগাছা উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের হাজরাখানা গ্রামের সরকারি খালে কংক্রিটের ঢালাই দিয়ে বেঁধে মাছ চাষ করার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় গতকাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইরুফা সুলতানা তিনদিনের মধ্যে ওই বাঁধ অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ওই জলাশয়ের মাছ ধরে বিক্রি করে টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

জানা যায়, চৌগাছা উপজেলার স্বরূপদাহ ও নারায়ণপুর ইউনিয়নের সীমানা নির্ধারণকারী বর্ষাগাড়ি খালটি দিয়ে স্বরূপদাহ ইউনিয়নের খড়িঞ্চা, আন্দারকোটা, চান্দারপোল, খড়িঞ্চা নওদাপাড়া, বাজে খড়িঞ্চা, বৃহৎ গ্রাম টেঙ্গুরপুর, নারায়ণপুর ইউনিয়নের বৃহৎ গ্রাম হাজরাখানা ও বুন্দেলীতলা, পার্শ্ববর্তী মহেশপুর উপজেলার পাঁচবাড়িয়া, যদুনাথপুর, শ্যামনগর, মান্দারবাড়িয়াসহ ১৫-২০টি গ্রামের মাঠের অতিরিক্ত পানি চৌগাছার টেঙ্গুরপুর হয়ে কপোতাক্ষ নদে নিষ্কাশন হয়। ২০২০-২১ অর্থবছরে ১০ লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে খালের টেঙ্গুরপুর পাশের প্রায় ৫০০ মিটার খনন করা হয়। এর পরই সেটি চৌগাছা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের ভাগ্নে পরিচয়ে দখলে নেন জনৈক মাসুদ আহম্মেদ।

 তিনি আরো কয়েকজনকে নিয়ে খালের ওই অংশ বাঁধ দিয়ে দখল করে মাছ চাষ করে আসছিলেন। খালে স্থানীয়দের গোসল করতেও নামতে দেন না তিনি। খালের ওই অংশে মাছ চাষের সুবিধার্থে টেঙ্গুরপুর অংশের হাজরাখানা ব্রিজের নিচে তিনি কংক্রিটের ঢালাই করে বাঁধ দিয়েছেন। যেন পানি কোনোভাবেই কপোতাক্ষ নদে পড়তে না পারে। এতে কয়েক বছর ধরে উজানের গ্রামের মাঠের বর্ষা মৌসুমের অতিরিক্ত পানি এসে অপেক্ষাকৃত ভাটির হাজরাখানা গ্রামের মাঠে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইরুফা সুলতানা বলেন, সরকারি খালে কোনোভাবেই দখলদারদের মাছ চাষ করতে দেয়া হবে না।