যশোর জেলা পরিষদের নির্বাচনে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল দুপুরে জেলা পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শহিদুল ইসলাম জেলা রিটার্নিং ও জেলা প্রশাসক বরাবর তিনি এ অভিযোগপত্র জমা দেন। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার পক্ষে অভিযোগটি গ্রহণ করেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন নির্বাচন অফিসার শওকত আলী। তিনি জানান, সরকারি ডাকবাংলো বা সার্কিট হাউজে নির্বাচনী সভা ও প্রতিমন্ত্রীর অংশগ্রহণ নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থী। অভিযোগটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনের সংসদ সদস্য। তিনি তার আপন ভাগ্নে জেলা পরিষদের সদস্য প্রার্থী গৌতম চক্রবর্তীর পক্ষে বিভিন্নভাবে ভোটারকে প্রভাবিত করছেন বলে অভিযোগ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর।

লিখিত অভিযোগে সদস্য প্রার্থী শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, জেলা পরিষদ নির্বাচনে  সদস্য পদে আমার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী গৌতম চক্রবর্তী।  তার মামা মণিরামপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য। জেলা পরিষদ নির্বাচনের আচরণবিধির ২২ নম্বর ধারা অনুযায়ী সংসদ সদস্যরা নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না। কিন্তু এ বিধি লঙ্ঘন করে আমার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী গৌতম চক্রবর্তীর পক্ষে গতকাল বেলা ১১টার দিকে যশোর সার্কিট হাউজে উপজেলার ইউপি চেয়ারম্যানদের ডেকে নির্বাচনী প্রচারণা চালান। সেখানে নির্বাচনী মিটিং করে ইউপি চেয়ারম্যানদের বিভিন্ন লোভ দেখিয়ে তার ভাগ্নে গৌতম চক্রবর্তীকে বিজয়ী করতে ইউপি সদস্যদের ভোট দেয়ার আহ্বান জানান। সার্কিট হাউজে নির্বাচনী প্রচারণা সভার ভিডিও ফুটেজ, সার্কিট হাউজের সিসি টিভির ফুটেজ তদন্ত করলে সত্যতা প্রমাণ পাওয়া যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, জেলা পরিষদ নির্বাচনের আচরণবিধির ২০ নম্বর ধারা অনুযায়ী সংসদ সদস্যরা নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না। একই সঙ্গে ধর্মীয় কোনো প্রতিষ্ঠানে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে না, কিন্তু গত ৪ অক্টোবর মশিয়াহাসিহ বিভিন্ন দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনকালে ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের কাছে তিনি তার ভাগ্নে গৌতম চক্রবর্তীর হয়ে প্রচারণা চালিয়েছিলেন।

এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখানে উপজেলার চেয়ারম্যানদের নিয়ে এডিবি উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউপি চেয়ারম্যানদের সঙ্গে কিছুটা দ্বন্দ্ব রয়েছে। সেটা নিয়ে কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে বসেছিলাম। ওখানে কোনো নির্বাচন নিয়ে কথা হয়নি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় আরেক প্রার্থী অভিযোগ করেছে।’