একসঙ্গে সংবিধান সংস্কার সভা ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবি করেছে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন।
আজ শুক্রবার (১৪ মার্চ) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। ব্যাংক লুটেরা এবং পাচারকারীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার জন্য স্পেশাল অর্থনৈতিক ট্রাইবুনাল গঠন, দল নিবন্ধনের স্বৈরতান্ত্রিক আইনের সংস্কার, কৃষিপণ্যের নূন্যতম মূল্য নির্ধারণ, ধর্ষণ ও মব সন্ত্রাস বন্ধ এবং সংবিধান সংস্কার সভা এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন একই সঙ্গে করার দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ূম। তিনি বলেন, সরকার এবং প্রভাবশালীদের একটি অংশ আবারো দেশে লুটপাট ও পাচার শুরু করেছে। সচিবালয়ে এবং সচিবালয়ের বাইরে শত শত কোটি টাকার লেনদেনের খবর শোনা যাচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, সরকার চিহ্নিত লুটপাটকারী, পাচারকারী, গণহত্যাকারী এবং তাদের দোসরদের বিচার করা দূরে থাক, অনেক ক্ষেত্রে তাদের আগের চেয়ে ক্ষমতাবান করেছেন, প্রমোশন দিচ্ছেন। প্রমোশন পেয়ে তারা আগের চেয়ে বেশি পরিমাণে লুটপাট ও পাচারের ব্যবস্থা করছেন। অভ্যুত্থানের কোনো কোনো শক্তিও তাদের এসব ফাঁদে পড়েছে। লুটপাট ও পাচার চালালে সরকার, রাষ্ট্র এবং রাজনৈতিক দল কখনো দেশের মানুষের পক্ষে কাজ করতে পারে না।
দলের অর্থ সমন্বয়ক দিদারুল ভূঁইয়া বলেন, নির্বাচন কমিশন আগের আইনে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের ঘোষণা দিয়ে হাসিনার মাফিয়াতন্ত্র জারি রাখছে। যে আইনে একটা দলকে নিবন্ধনের জন্য প্রতি মাসে অন্তত কয়েক কোটি টাকা খরচ করতে হয়, সে আইন সুস্থ রাজনৈতিক চর্চার পক্ষের হতে পারে না। অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনের সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের জাতীয় সমন্বয় কমিটির সদস্য জাকিয়া শিশির বলেন, মব সন্ত্রাস বন্ধে সরকার ও প্রভাবশালীদের আস্কারা দেয়া বন্ধ করতে হবে। যারা প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে এসবে মদদ দিচ্ছেন, তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
সর্বোপরি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের জন্য ঐক্য কমিশন কার্যকর করা, জনমতের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ সংখ্যক সংস্কার সম্পন্ন করা, এবং একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার সভা ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করে সরকার গঠনে সমাধান যাত্রা শুরু হবে বলে আলোচকরা মত প্রকাশ করেন।
সমাবেশে আছিয়ার ধর্ষণের দ্রুত বিচার দাবি করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের জাতীয় সমন্বয় কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক শেখ নাসিরউদ্দীন।










