নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের নতুনবাজার এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও অটোরিকশাস্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে আমজাদ বাহিনী ও নুরে আলম বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ভাংচুর ও বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন।

আহতরা হলেন ইউনুস, মারজান আক্তার, বিপ্লব, জুমারানী সরকার, অটোচালক সাব্বির, হাসান, শফিক, শুভ, নয়ন, মানিক, জনি, ইউসুফ, তারামিয়া, নাইম, শামীম, নাজমুল হাসান, বাপ্পা, সেলিম, রফিকুল, আলাউদ্দিন, ইয়াছিন, মোবারক ও খোরশেদ।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে গোলাকান্দাইল নতুনবাজার এলাকার নুরে আলম বাহিনীর সদস্য মাছুম বিল্লাহ, ইমরান, মাসুম মিয়া, রনি, নবী হোসেন, তুহিন মিয়া, পনির হোসেনসহ ২০/২২ জনের একদল মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। তাদের এ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নেয়ার জন্য আমজাদ বাহিনী  সদস্যরা নুরে আলম বাহিনীর লোকজনকে বাধা দেয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। রাতে নুরে আলম বাহিনীর সদস্যরা রামদা, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল, লোহার রড ও পাইপ নিয়ে আমজাদ হোসেনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। পরে পেট্রল দিয়ে ভাড়াবাড়ির ১৭টি কক্ষে আগুন ধরিয়ে দেয়। এলাকাবাসী ও ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত নুরে আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, গোলাকান্দাইল নতুনবাজার অটোরিকশাস্ট্যান্ডের সভাপতি হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করে আসছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় আনোয়ার হোসেন, তার ভাই আমজাদ হোসেন, আমিনুল ইসলামসহ ৮/১০ জন মিলে অটোরিকশাস্ট্যান্ডে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। বাধা দিলে অটোরিকশাস্ট্যান্ডের অফিস ও ২৬টি অটোরিকশা ভাংচুর করেন তারা।

রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এএফএম সায়েদ বলেন, সংঘর্ষের ঘটনার সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। উভয়পক্ষ থেকে অভিযোগ পেয়েছি। সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।