করোনা ভাইরাসে (কভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক সহকারী অধ্যাপক মারা গেছেন। আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার বয়স প্রায় ৫০ বছর।
দেশে এখন পর্যন্ত ১১ জন চিকিৎসকসহ ৩০ জনেরও বেশি স্বাস্থ্যকর্মী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। তবে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এটাই প্রথম কোন চিকিৎসকের মৃত্যু হলো।
সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক হিমাংশু লাল রায় এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘ঘটনাটি আমাদের জন্য কষ্টের। আমরা একজন চিকিৎসককে হারালাম।’
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেটের সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান জানান, শারিরীক অবস্থার অবনতি হলে গত রোববার ওই চিকিৎসককে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়। গতকাল রাত থেকে তার অবস্থা বেশি খারাপ ছিল। সংক্রমন তার হার্টকে আক্রান্ত করেছিল।
সংক্রমন বিধি অনুযায়ী ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক এই শিক্ষার্থীকে ঢাকাতেই দাফন হবে বলেও জানান তিনি।
এর আগে গেল ৫ এপ্রিল (রোববার) সিলেটে প্রথম করোনারোগী হিসেবে এই চিকিৎসকের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। পরে ওই রাতেই নগরীর হাউজিং এস্টেট এলাকায় চিকিৎসকের বাসা লকডাউন করে দেয় প্রশাসন। পরদিন ৬ এপ্রিল (সোমবার) পুরো হাউজিং এস্টেট এলাকা লকডাউন করা হয়।
এরপর তার অবস্থার অবনতি হলে ৭ এপ্রিল (মঙ্গলবা) রাত ১১টার দিকে তাকে নগরের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে (সদর হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়। ৮ এপ্রিল ( বুধবার) উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়।
বিষয়টি নিয়ে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, তার পরিবারের ইচ্ছায় তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। সেখানে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ওই চিকিৎসকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সোমবার (১৩ এপ্রিল) তাকে লাইফসাপোর্টে রাখা হয়। হাসপাতালে ওই চিকিৎসকের স্ত্রীও আছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, তিনি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক ছিলেন। তার চেম্বার ছিল নগরের সুবহানিঘাট ইবনে সিনা হাসপাতালে। সেখানে তিনি প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতেন, রোগী দেখতেন। ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে কোনো প্রবাসী করোনা আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা দিতে গিয়ে তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।
এদিকে, তার আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় সংস্পর্শে থাকা চিকিৎসকসহ ১৬ জনের করোনা পরীক্ষা করা হলে রিপোর্ট নেগেটিভ আসে।
করোনায় মৃত্যুবরণকারী চিকিৎসক নগরের চার নম্বর ওয়ার্ডের হাউজিং এস্টেট এলাকার বাসিন্দা। তিনি দুই সন্তানের জনক ছিলেন এবং তিনি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের ইন্টারনাল মেডিসিনের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন বলে নিশ্চিত করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেটের সহকারী পরিচালক ডা. মো. আনিসুর রহমান।










