খুলনায় কভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সহ-সভাপতি ও কপিলমুনি ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (কেকেএসপি) পরিচালক সরদার রফিকুল ইসলামসহ (৬৮) তিনজন মারা গেছেন। গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সরদার রফিকুল ইসলাম। এছাড়াও করোনায় আক্রান্ত হয়ে গতকালই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া অন্য দুজন হলেন, চিকিৎসক নেতা অধ্যাপক ডা. শেখ মো. আখতারুজ্জামানের একমাত্র মেয়ে ঐশী বিনতে জামান (৩২) ও সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালক আমজাদ হোসেনের মা নুরজাহান বেগম (১০৪)। 

এদের মধ্যে সরদার রফিকুল ইসলাম নগরীর ছোট মির্জাপুরের বাসিন্দা। খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ও করোনা হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ ফরিদ উদ্দিন আহমেদ জানান, রফিকুল ইসলাম সোমবার দিনগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তিনি মারা যান।

জানা গেছে, সরদার রফিকুল ইসলাম পাইকগাছা উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়নের উত্তর শলুয়া গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বার সরদারের ছেলে। মরহুম সরদার রফিকুল ইসলাম খুলনা আবাহনী ক্রীড়া চক্র, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ও সোনালী অতীত ক্লাবের আজীবন সদস্য ছিলেন। ক্রিকেট ক্লাব ছাড়াও তার ভলিবল, হ্যান্ডবল, বাস্কেটবলসহ আরো বেশ কয়েকটি টিম রয়েছে। 

আর ঐশী বিনতে জামান বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশনের (বিএমএ) খুলনা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক  অধ্যাপক ডা. শেখ মো. আখতারুজ্জামানের একমাত্র মেয়ে। ঐশির স্বামী ডা. শাহারিয়ার জামান খুলনা আই হাসপাতালের সহকারী পরিচালক। তিনিও করোনা পজিটিভ বলে জানা গেছে। 

ঐশীর বাবা অধ্যাপক ডা. সেখ আখতারুজ্জামান বলেন, গত ৩০ জুন করোনা পজিটিভ শনাক্ত হলেও ঐশীর কোন উপসর্গই ছিল না। গত ৪ জুলাই তাকে রাতে করোনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার একটু শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। মঙ্গলবার দুপুরে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

অপরদিকে, শতবর্ষী নুরজাহান বেগম লকপুর গ্রুপ অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের ডিএমডি ও সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালক আমজাদ হোসেনের মা।

মহানগরীর ফর্টিস এসকর্টস কার্ডিয়াক ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা রুবেল শেখ বলেন, নুরজাহান বেগম করোনা পজেটিভ ছিলেন। আমরা তাকে করোনা হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলেছিলাম। কিন্তু তার শারীরিক অবস্থা নেওয়ার মতো ছিল না। এর মধ্যেই তিনি মঙ্গলবার সাড়ে ৭টায় মারা যান।