দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি নারী হলেও জাতীয় সংসদে তাদের প্রতিনিধিত্ব এখনো হতাশাজনকভাবে কম। তাই আগামী জাতীয় নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো থেকে ৩৩ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন দাবি জানিয়েছে নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরাম। একইসঙ্গে সংরক্ষিত ১০০ আসনে (প্রস্তাবিত) সরাসরি নির্বাচনের দাবি করা হয়েছে।
রোববার দুপুরে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রস্তাবনা উপস্থাপন করে নারীর অধিকার বিষয়ক ১২টি সংগঠনের এই জোট।
এতে ফোরামের পক্ষ থেকে সামিনা লুৎফা চার দফা দাবি উপস্থাপন করেন। এগুলো হলো দেশের মোট জনসংখ্যার ৫১ শতাংশ নারীকে যথাযথ প্রতিনিধিত্ব দিতে সংসদে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা; ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অন্তত ১০০ আসনে নারীদের সরাসরি নির্বাচনের ব্যবস্থা করা; রাজনৈতিক দলগুলোকে ৩৩ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন বাধ্যতামূলক করা এবং আইন সংশোধন করে তা কার্যকর করা; জুলাই সনদ অনুযায়ী ধাপে ধাপে সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১০০ করা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সুস্মিতা রায় বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সংসদে নারীর সরাসরি নির্বাচিত প্রতিনিধির সংখ্যা সীমিত। বর্তমানে সংবিধানের ৬৫ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদে মাত্র ৫০টি সংরক্ষিত আসন রয়েছে, যা দলীয় মনোনয়নের ভিত্তিতে পূরণ হয়। ফলে নারীরা স্বাধীন রাজনৈতিক পরিচয়ে অগ্রসর হতে পারছেন না।
একশনএইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির অভিযোগ করেন, সংসদীয় রাজনীতিতে নারীর অবদান সব সময়ই গৌণ রাখা হয়েছে। সমাজ, অর্থনীতি ও মুক্তিযুদ্ধে নারীর অসামান্য অবদান থাকলেও তা জাতীয় সংসদে প্রতিফলিত হয়নি। রাজনৈতিক দলগুলোও নারীর নেতৃত্ব তৈরিতে কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে নারী সংগঠক, শিক্ষাবিদ, গবেষক, আইনজীবী, সমাজকর্মীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সবার অভিন্ন মতামত ছিল— যথাযথ নারী প্রতিনিধিত্ব ছাড়া প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। এ ছাড়াও রাজনৈতিক দল মনোনীত কিংবা স্বতন্ত্র সব নারী প্রার্থীর জন্য রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বিশেষ আর্থিক সহায়তা বরাদ্দের দাবি জানান তারা। তারা বলেন, নারীর প্রতিনিধিত্বকে প্রতীকী পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। আমাদের লক্ষ্য হলো নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা, যাতে তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন। সংবাদ সম্মেলনে জুলাই সনদে নারীর অধিকার বিষয়ক সব দাবি অন্তর্ভুক্ত হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন নারী নেতারা।










