চার বছর পেরিয়ে গেলেও আইনি জটিলতার কারণে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের সাংবাদিক শিমুল হত্যা মামলা বিচারের মুখ দেখছে না। মামলার এই দীর্ঘসূত্রিতার কারণে হত্যাকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ত প্রকৃত আসামিদের বিচার হবে কি না তা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে নিহতের স্বজনদের। 

২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে আওয়ামী লীগের দু গ্রুপের সংর্ঘষের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুল। পরের দিন ৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা নেয়ার পথে তিনি মারা যান। চার বছর পার হতে চললেও এখনো মামলাটি আইনি জালে স্থবির হয়ে আছে। 

নিহতের স্বজনেরা জানান, বয়সের ভারে তারা অনেকেই এখন ক্লান্ত। প্রিয় স্বজন হত্যার বিচারটি দেখে যেতে চান তারা। 

তবে সরকার পক্ষের আইনজীবী জানান, উচ্চ আদালতে একটি রুল নিষ্পত্তি না হওয়ার কারণেই মামলার কার্যক্রম এখন স্থগিত রয়েছে।

২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর আওয়ামী লীগের দু-গ্রুপ সংর্ঘষের সময় গুলির শব্দে আতঙ্কিত হয়ে ওঠে পুরো পৌর এলাকা। সংর্ঘষের মাঝে গুলিতে আহত হন সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুলসহ আরো কয়েকজন। আহতদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পর সাংবাদিক শিমুলের অবস্থার অবনতি হলে পরের দিন শুক্রবার দুপুরে ঢাকায় নেয়ার পথে মারা যান তিনি।

চার বছরেও চাঞ্চল্যকর সাংবাদিক শিমুল হত্যা মামলার নিষ্পত্তি না হওয়ায় এখনো উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে স্থানীয় সাংবাদিকদের। সহকর্মী হত্যার বিচার দেখতে চান তারা। শাহজাদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি বিমল কুন্ডু জানান সাংবাদিক শিমুল হত্যা মামলার অভিযুক্ত আসামিরা নানা অজুহাতে মামলার বিচার বিলম্বিত করছেন। ইতিপূর্বে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বাদীপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ৬ সপ্তাহের মধ্যে শিমুল হত্যা মামলার বিচার কাজ শুরু করার নির্দেশ দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

শিমুলের স্ত্রী নুরুন নাহার খাতুন বলেন, তার স্বামী হত্যার কাঙ্ক্ষিত বিচার তিনি এখনো পাননি। এমনকি মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়নি। তিনি দ্রুত এই বিচারটির নিষ্পত্তি এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।

সিরাজগঞ্জের সরকারি কৌশলি অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান জানালেন, মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে এই মামলা সংক্রান্ত একটি রুল নিষ্পত্তি না হওয়ার কারণেই মামলা স্থগিত রয়েছে। উচ্চ আদালত নির্দেশ দিলেই এই মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব।

আদালত সূত্রে জানা যায়, শিমুল হত্যা মামলা দায়েরের তিন মাসের মাথায় তদন্তকারী কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম তৎকালীন পৌর মেয়র হালিমুল হক মীরু সহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেন। অপরদিকে একই ঘটনায় হামলা লুটপাট ও গুলি বিনিময়ের ঘটনা অভিযোগ এনে হালিমুল হক মিরুর স্ত্রী লুৎফুন নেসা পিয়ারি পৃথক মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে জুডিশিয়াল তদন্ত শেষে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় ১৯ জন এবং বিস্ফোরক ধারায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সমন জারি করে বিচারিক আদালত। ২০১৮ সালের ২৪ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী শিমুল হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হালিমুল হক মিরুসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে চলমান মামলাটি রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে প্রেরণ করা হয়। অপরদিকে একই ঘটনায় দায়ের করা বিস্ফোরক মামলা সিরাজগঞ্জ স্পেশাল ট্রাইবুনালে এবং হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি শাহজাদপুর আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

বর্তমানে শিমুল হত্যা মামলার অভিযুক্তদের ৩৮ আসামিই এখন জামিনে রয়েছেন।