নারায়ণগঞ্জ শহরের নিতাইগঞ্জে একটি বহুতল ভবনে বেলা মা ও মেয়েকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল বেলা সাড়ে ৩টার দিকে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। এ ঘটনায় জুবায়ের নামের এক যুবক ও এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। আটক নারীর নাম জানা যায়নি। নিহতরা হলেন মা রুমা  চক্রবর্তী (৪৬) ও মেয়ে ঋতু চক্রবর্তী (২২)। রুমার স্বামী স্থানীয় ডাল ব্যবসায়ী ইসলাম স্টোরে চাকরি করেন।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি শাহ জামান জানান, শহরের নিতাইগঞ্জে ডালপট্টির মাতৃভবনের ছয় তলায় বাসুদেবের ফ্ল্যাটের দরজায় বেলা আড়াইটার দিকে নক করেন আটক জুবায়ের বাসার। এ সময় বাসুদেব বাসায় ছিলেন না। তার স্ত্রী রুমা চক্রবর্তী দরজা খোলেন। ধারণা করা হচ্ছে, দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে জুবায়ের রুমা চক্রবর্তীকে ছুরি দিয়ে ভয় দেখান। রুমা চিত্কার করায় তাকে ছুরিকাঘাত করেন জুবায়ের। এ সময় মেয়ে ঋতু চক্রবর্তী এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। শব্দ শুনে পাশের ফ্ল্যাটের লোকজন এগিয়ে এলে ওই ফ্ল্যাট থেকে বঁটি হাতে এক নারী নিচের দিকে নেমে আসে। এ অবস্থায় নিতাইগঞ্জের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা বাড়ির প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেন, যাতে বাসা থেকে কেউ বের হতে না পারেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাদের আটক করে।

নিহত ঋতুর বাবা বাসুদেব চক্রবর্তী বলেন, আমার সব কেড়ে নিয়েছে। আমার মেয়ে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। মেয়ের সুবিধার জন্য তাকে নিজ বাসায় নিয়ে আসি। আমার কারো সঙ্গে কোনো শত্রুতা নেই। আমি হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।

স্থানীয় ব্যবসায়ী শঙ্কর সাহা জানান, মাতৃভবনের ছয় তলায় চিত্কার শুনতে পেয়ে ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিই। এ সময় এক নারী ওপর থেকে বঁটি হাতে নিচে নেমে আসেন। তিনি গেট খুলে দেয়ার জন্য বারবার বলছিলেন।  পরে পুলিশ এসে ওই নারীকে বঁটিসহ আটক করে নিয়ে যায়।