দেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখা রফতানিকারকদের স্বীকৃতি দিতে ‘এইচএসবিসি এক্সপোর্ট এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস-২০২৫’ আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে দ্য হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন (এইচএসবিসি) লিমিটেড বাংলাদেশ। নমিনেশন ফর্ম পূরণের মাধ্যমে ‘বছরের সেরা রফতানিকারক’ হিসেবে চারটি ক্যাটাগরিতে এই পুরস্কার প্রদান করা হবে। সোমবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়।
‘এইচএসবিসি এক্সপোর্ট অ্যাক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস্-২০২৫’ এর পৃষ্ঠপোষকতায় রয়েছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ঢাকাস্থ বৃটিশ হাইকমিশন। এছাড়া টেকনিক্যাল পার্টনার হিসেবে আছে কেপিএমজি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস লিমিটেড।
সংবাদ সম্মেলনে এইচএসবিসি বাংলাদেশের কান্ট্রি হেড অব কমিউনিকেশনস তালুকদার নোমান আনোয়ার অ্যাওয়ার্ডস-এ অংশগ্রহণের নিয়মাবলী বর্ণনা করেন।
তিনি জানান, ২০২৪ সালের পহেলা জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে রফতানিতে অবদান রাখা ‘সেরা’ রপ্তানিকারক চার প্রতিষ্ঠানকে চারটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেয়া হবে। পুরস্কার জেতার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো কিংবা তাদের পক্ষে অন্য প্রতিষ্ঠান মনোনয়ন দিতে পারবে। এজন্য আগামী ১৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নমিনেশন ফরম জমা দিতে হবে। বিজয়ীদের নির্বাচনের ক্ষেত্রে দেশের রপ্তানি ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে অবদান, সামাজিক দায়িত্ববোধ, টেকসই পরিচালন প্রক্রিয়া, ডাইভার্সিটি, রেগুলেটরি কমপ্লায়েন্স পর্যালোচনা করা হবে। এতে বিচারকমণ্ডলী বা জুরি প্যানেলে এইচএসবিসির সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট টিম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ঢাকাস্থ বৃটিশ হাই কমিশনের নির্বাচিত সদস্যরা থাকবেন। তবে এতে অংশগ্রহনের জন্যে কোনো এন্ট্রি ফি লাগবে না। অংশগ্রহনকারীকে এইচএসবিসির গ্রাহক হওয়ারও প্রয়োজন নেই। ৷
অ্যাওয়ার্ডে ক্যাটাগরিগুলো হচ্ছে- আরএমজি বা তৈরি পোশাক শিল্প, আরএমজি ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ, ম্যানুফ্যাকচারিং ও সার্ভিস। আরএমজি ক্যাটাগরিতে সকল এ্যাপারেল পণ্য যা তৈরি পোশাক শিল্পের সাথে সম্পৃক্ত এমন প্রতিষ্ঠান অংশ নিতে পারবে। তবে এজন্য বার্ষিক রপ্তানি আয় হতে হবে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা তারও বেশি। আরএমজি ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ক্যাটাগরিতে ‘তৈরি পোশাক শিল্প এবং ম্যানুফ্যাকচারিং খাতকে সাপোর্ট’ করে এমন পণ্যের প্রতিষ্ঠান অংশ নিতে পারবে। এজন্য বার্ষিক রপ্তানি আয় ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা তার বেশি। ম্যানুফ্যাকচারিং ক্যাটাগরিতে ইলেক্ট্রনিক্স, হাল্কা ইঞ্জিনিয়ারিং, প্লাস্টিকস, ফার্নিচার, জুতা, চামড়াজাত পণ্য, অ্যাগ্রো প্রসেসিং, অটোমোটিভ কম্পোনেন্টস ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান অংশ নিতে পারবে। এজন্য ক্যাটাগরির জন্য বার্ষিক রপ্তানি আয় থাকতে হবে ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা তার বেশি। সার্ভিস ক্যাটাগরিতে থাকছে প্রোফেশনাল, ডিজিটাল অথবা জ্ঞান-ভিত্তিক সার্ভিস খাত। এইখাতের বার্ষিক রপ্তানি আয় ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ও তার বেশি থাকতে হবে। নমিনেশন ফর্ম ও অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে এই ঠিকানায় www.business.hsbc.com.bd/EEA 2025
সংবাদ সম্মেলনে এ সময় এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. মাহবুব উর রহমান বলেন, ‘এই পুরস্কারের মাধ্যমে আমরা দেশের সফল প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তাদের সাফল্য এবং বৈশ্বিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থানকে সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে তাদের প্রচেষ্টাকে উদযাপন করছি। ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’-কে বিশ্ববাজারে পৌঁছে দিতে ও আমাদের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে তারা যে ভূমিকা রাখছেন, সেই যাত্রায় অংশ নিতে পেরে আমরা গর্বিত।
এর আগে, এইচএসবিসি বাংলাদেশের সিইও মাহবুব উর রহমানের সঞ্চালনায় একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনায়, পূর্বে এক্সপোর্ট এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস অর্জনকারী প্রতিষ্ঠান ডিবিএল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এমএ জাব্বার ও এনভয় লিগ্যাসি গ্রুপ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান কুতুবউদ্দিন আহমেদ দেশের রপ্তানি, এই অ্যাওয়ার্ডস্ নিয়ে তাদের অনুভূতি তুলে ধরেন।










