গত কয়েকদিনের টানা শ্রমিক অসন্তোষের পর স্বস্তি ফিরেছে শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায়। ৪৫টি ছাড়া বাকি সব কারখানায় কাজে যোগ দিয়েছেন শ্রমিকরা। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। গতকালের চেয়ে পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক রয়েছে।

গতকাল সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার জিরাবো, নিশ্চিন্তপুর, নরসিংহপুর, সরকার মার্কেট, জামগড়া, বাইপাইলসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, স্বতঃস্ফূর্তভাবে পোশাক কারখানায় শ্রমিকরা প্রবেশ করে কাজে যোগ দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকটি কারখানায় শ্রমিক ও মালিক পক্ষের আলোচনা চলছে। আলোচনা ফলপ্রসূ হলে এ কারখানাগুলোয় উৎপাদন শুরু হবে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হাজিরা বোনাস ও টিফিন বিল বাড়িয়ে শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার সব পোশাক কারখানা গতকাল খোলার কথা ছিল। প্রায় সব কারখানা খুলে দেয়া হলেও ৪৫টি কারখানায় শ্রমিকরা মালিক পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছেন। আলোচনায় সিদ্ধান্তে পৌঁছলে সেসব কারখানাতেই উৎপাদন শুরু হবে বলে জানিয়েছে শিল্প পুলিশ।

শিল্প পুলিশ ও কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকরা জানান, অনেক কারখানায় উৎপাদন শুরু হয়েছে। শ্রমিকরা কারখানায় প্রবেশ করে কাজ শুরু করে দিয়েছেন। কিছু কারখানা এখনো খুলে দেয়া হয়নি। গেটে এখনো বন্ধের নোটিস রয়েছে। এসব কারখানার শ্রমিকরা বাসায় ফিরে গেছেন। শ্রমিকরা মালিক পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে কাজে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন। শ্রমিকরা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেননি। বেশির ভাগ কারখানাই শ্রমিকদের দাবি মেনে নিয়েছে। অনেক কারখানায় কাজ পুরোদমে চলছে।

এ ব্যাপারে শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার সারোয়ার আলম বলেন, ‘সকালে কারখানাগুলোয় শ্রমিকরা প্রবেশ করেছেন। প্রায় সব কারখানায় কাজ চলমান। প্রায় ৪৫টি কারখানায় দাবি-দাওয়া নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মিল না হওয়ায় এখনো চালু করা যায়নি।’