লক্ষ্মীপুরে যৌতুকের দাবিতে আরজু বেগমকে হত্যার দায়ে স্বামী কামাল উদ্দিনকে (৪৭) মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গতকাল বেলা ১১টার দিকে লক্ষ্মীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সিরাজুদ্দৌলাহ কুতুবী এ রায় দেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি আইনজীবী আবুল বাশার এ রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, স্ত্রী হত্যার দায়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইন ২০০০ (সংশোধিত ০৩)-এর ১১ (ক) ধারায় আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হওয়ায় আইনের ওই ধারায় আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ, ঢাকার অনুমোদন সাপেক্ষে আদালত তার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। রায়ের সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত কামাল সদর উপজেলার হাজিরপাড়া ইউনিয়নের বড় বল্লভপুর গ্রামের বাসিন্দা। মামলার বাদী জগলুর রহমান দিঘলী ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা।
আদালত সূত্র জানায়, ২০০৯ সালে ২ জানুয়ারি আরজু বেগমকে যৌতুকের দাবিতে হত্যার অভিযোগে বড় ভাই জগলুর রহমান বাদী হয়ে কামালের বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। এতে যৌতুক না দেয়ায় মারধরসহ নির্যাতন করে কামাল তার স্ত্রীকে হত্যা করেন বলে অভিযোগ আনা হয়। ওই মামলায় পুলিশ আদালতে কামালের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। দীর্ঘ শুনানি ও ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত বুধবার এ রায় দেন।
এদিকে আদালতের এ রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আসামির দ্বিতীয় স্ত্রী শারমিন আক্তার। মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল আবেদন করবেন বলে জানান তিনি ও আসামিপক্ষের আইনজীবী কামাল উদ্দিন।









