যশোরের রূপদিয়ায় সংঘর্ষ ও ভাংচুরের ঘটনায় যশোর জেলা বিএনপি নেতা গোলাম রেজা দুলুসহ ৫৬ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মনিরুজ্জামান সাকির বাদী হয়ে এ মামলা করেন। মামলায় ২০ নম্বর আসামি করা হয়েছে যশোর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাসুম কবিরকে। তিনি ওই এলাকার প্রয়াত শিক্ষক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশেমের ছেলে। আবুল হাশেম দেশ স্বাধীনের পর থেকে যশোর সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ছিলেন। মাসুম কবির অভিযোগ করে বলেছেন, আমি রাকিবুজ্জমান নামে পুলিশের এক কর্মকর্তার নামে দুর্নীতির মামলা করেছিলাম। সেজন্য আওয়ামী লীগ পরিবারের লোক হয়েও বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে আমাকে আসামি করা হয়েছে।
মামলায় বলা হয়েছে, বিএনপির নেতাকর্মীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ২৭ আগস্ট দুপুরে নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের অফিসকক্ষে প্রবেশ করে জনমনে আতঙ্ক তৈরি করেন। উত্তেজিত বিএনপি কর্মীরা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব নাজমা খাতুনসহ উপস্থিত লোকজনকে লাঠি দিয়ে মারপিট করে আহত এবং সরকারি কাজে বাধা প্রদান করেন। ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও এসএস পাইপ দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন স্থানে ভাংচুর করা হয়েছে। পরিষদ ভবনের দুটি সোলার, একটি সনি ব্রাভিয়া টেলিভিশন, ১৫টি সিসি ক্যামেরা নষ্ট করা হয়েছে। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ব্যবহূত দুটি এইচপি ল্যাপটপ, অফিস কক্ষে রক্ষিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে যায় তারা।
মামলার বাদী নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মনিরুজ্জামান সাকির বলেন, মাসুম কবির নামে আমি কাউকে চিনি না। এসব মামলা কীভাবে হয় তা তো আপনারা ভালো বোঝেন।
যশোর জেলা আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক লুত্ফুল কবীর বিজু বলেন, মাসুম কবির আমাদের দলের কর্মী। তার বাবাও আওয়ামী লীগের পদে ছিলেন।
যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন বলেন, আবুল হাশেম স্যার নওয়াপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ছিলেন। তার পরিবার স্বাধীনতার পক্ষের দল করেন।
এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম জানান, মাসুম কবির কীভাবে আসামি হলেন সেটি বাদী জানেন। এখানে আমাদের করার কিছুই নেই।










