খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিনই বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন বিভাগের বিভিন্ন জেলার মানুষ। তবে গতকাল হাসপাতাটিতে রোগীর তুলনায় দর্শনার্থী ছিল প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। অতিরিক্ত দর্শনার্থীর কারণে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে করোনা ঝুঁকিও।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অধিকাংশ দর্শনার্থীই সামাজিক দূরত্বসহ করোনা মোকাবেলায় অন্যান্য বিধিনিষেধ মেনে চলছেন না। এ কারণে নভেল করোনাভাইরাসের হটস্পট হতে পারে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। যদিও একজন রোগীর সঙ্গে একজন দর্শনার্থী রাখার বিধান রয়েছে।

গতকাল দুপুরে লেবার ওয়ার্ডের সামনে দেখা যায়, প্রতিটি ওয়ার্ডের সামনেই দর্শনার্থীদের সারি সারি অবস্থান। কেউই সামাজিক দূরত্বসহ অন্যান্য বিধিনিষেধ মানছে না। রোগীর স্বজনদের সঙ্গে হাসপাতালের স্টাফদের কথাকাটাকাটির চিত্র দেখা যায়। গাইনি ওয়ার্ডের খালি কক্ষে রোগীর স্বজনদের প্রবেশ ও মালপত্র রাখা নিয়ে এ কথাকাটাকাটির সূত্রপাত। এছাড়া লেবার ওয়ার্ডসহ কয়েকটি স্থানে সংস্কারকাজ করতে দেখা গেছে। ফলে হাসপাতালজুড়েই কাদাপানিতে সয়লাব হয়ে রয়েছে। মেডিসিন ওয়ার্ডের বারান্দায় বেড দিয়ে রোগী রাখা হয়েছে। পাশাপাশি মেডিসিন ও গাইনি ওয়ার্ডের সামনে দেখা যায় দর্শনার্থীর জটলা।

রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, প্রয়োজনের সময় হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় থেকে শুরু করে কাউকেই পাওয়া যায় না। এজন্য করোনা ঝুঁকি জেনেও নিজের স্বজনদের ওপরই ভরসা করতে হয়।

দীঘলিয়ার বাসিন্দা মরিয়ম বেগম পাঁচদিন আগে মেয়েকে লেবার ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। তিনি বলেন, পাঁচদিন ধরে অসহ্য গরমের মধ্যেও ফ্যান ছাড়া থাকতে হয়েছে। অবশেষে বাড়ি থেকে স্ট্যান্ড ফ্যান এনে থাকতে হচ্ছে।

নিউমার্কেট এলাকার নুর ইসলাম বলেন, আমার ভাই শহিদুল ইসলামকে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। আমার সঙ্গে পরিবারের চারজন সদস্য হাসপাতালে অবস্থান করছেন। চিকিৎসক এলে তিনজন বাইরে চলে যান। এরপর আমরা পর্যায়ক্রমে রোগীর সেবা করছি।

খুমেক হাসপাতালের ডায়েট ক্লার্ক (স্টুয়ার্ড) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের আগে হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ রোগীর অবস্থান ছিল। করোনার পর এ হাসপাতাল রোগী শূন্য হয়ে পড়েছিল। বর্তমানে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তবে হাসপাতালে আসার পর একটু সুস্থতাবোধ করার পর আর রোগী এখানে থাকতে চান না। তবে সমস্যা সৃষ্টি করছেন রোগীর স্বজনরা। একজন রোগীর সঙ্গে তিন-চারজন দর্শনার্থী আসছেন। এজন্য সেবাদানও ব্যাহত হচ্ছে।

খুমেক হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অঞ্জন বিশ্বাস বলেন, এখন হাসপাতালে একজন রোগীর সঙ্গে একজন দর্শনার্থী অনুমোদন দেয়া হচ্ছে। কিন্তু তার পরও তা মানছেন না অনেকেই। আবার অনেক রোগীর স্বজনরা লুকিয়ে হাসপাতালে জটলা করছেন।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মুন্সী মো. সেলিম রেজা সেকান্দার বণিক বার্তাকে বলেন, একজন রোগীর সঙ্গে একজন দর্শনার্থী রাখার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু হাসপাতালে আসা অধিকাংশ রোগীর স্বজনরা সেটা মানছেন না। আমরা চেষ্টা করছি দর্শনার্থীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে এনে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার।

করোনা ঝুঁকির বিষয়ে তিনি বলেন, নভেল করোনাভাইরাসের কারণে বর্তমানে বিশেষ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ অবস্থায় সামাজিক দূরত্বসহ অন্যান্য বিধিনিষেধ অবশ্যই পালন করতে হবে। কিন্তু দর্শনার্থী বেশি হওয়ায় তা সম্ভব হচ্ছে না। তার পরও দায়িত্বরত স্টাফদের দিয়ে দর্শনার্থী নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি।