দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারসহ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলার ঘটনায় সরকারের ভেতরের একটি অংশের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। তিনি আরো বলেন, ‘এই ঘটনার পর আমরা বলেছি, এ ঘটনায় সরকারের ভেতরের একটা অংশের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। সমাজে এটার পক্ষে সম্মতি তৈরি করা হয়েছিল অনেকদিন ধরেই এবং এটার সঙ্গে রাজনৈতিক ব্যাকআপও আছে। এই তিনটা ঘটনা একসঙ্গে না ঘটলে এত বড় সাহস করা কারো পক্ষে সম্ভব হতো না। এটা যে কয়েক হাজার মানুষ গিয়ে ঘটিয়েছে এ রকমও না। ফলে পুরো ঘটনাটাই পরিকল্পিত ছিল।’
প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ‘মব ভায়োলেন্সে আক্রান্ত বাংলাদেশ’ শিরোনামে যৌথ প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেছে নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-নোয়াব ও সম্পাদক পরিষদ। সেখানে সংহতি জ্ঞাপন করে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘আজকের এ প্রতিবাদ সভায় আমরা সংহতি জ্ঞাপন করছি। আমরা আজকে যে পরিস্থিতিতে এসে দাড়িঁয়েছি সেটা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। কারণ পুরো পরিস্থিতির সঙ্গে আমাদের জুলাই অভ্যুত্থান ও তার পরবর্তী সময়ে যেই পরিবেশ এবং বাংলাদেশ প্রত্যাশা করেছিলাম সেই দিকে আগাচ্ছি না, এটা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। আরো দুর্ভাগ্যজনক যে ওই রাতে যে ঘটনাটা (প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারসহ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের উপর হামলা) ঘটিয়েছে তারা জুলাই অভ্যুত্থানের স্লোগান ব্যবহার করেছে, শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে ব্যবহার করেছে। আমাদের স্লোগান ব্যবহার করে সেখানে হামলা করেছে এবং সেটার পক্ষে সম্মতি তৈরি করেছে। পুরো ঘটনাটাই পরিকল্পিত ছিল, হাদির একটা এক্সিডেন্ট হলে কী কী ঘটনা ঘটানো হবে বাংলাদেশে, এটার একটা চক্রান্ত পরিকল্পনা আগে থেকেই তৈরি হয়েছে। ফলে আমরা মনে করি আমাদের সবারই এটার কিছু দায় আছে।‘
মবোক্রেসির নামে এখন পরিকল্পিত অপরাধ করা হচ্ছে জানিয়ে এনসিপির এ নেতা বলেন, ‘আমাদের অনেক বেশি দায় আছে যারা আমরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করেছিলাম। আজকে আমরা একটা শব্দ ব্যবহার করছি— মব ভায়োলেন্স। এ শব্দটার সঙ্গে প্রথম দিকে আমি একমত হতাম না বা আমরা এটার বিরোধিতা করতাম। কারণ আমরা যাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলাম তাদের পক্ষ থেকেই পুরো জুলাই গণভুত্থানকে প্রথম থেকে বলা হয়েছে মবোক্রেসি। ফলে আমরা বলেছি যে, এটা মবোক্রেসি না। আমরা অনেক সময় বলেছি, বিপ্লব পরবর্তী পরিস্থিতিতে দেশে অনেক কিছু হয়, পুলিশ নাই। মানুষের ১৬ বছরের পুঞ্জিভূত ক্ষোভ। কিন্তু দেড় বছর পার হয়ে গিয়েছে। এখন যেটা হচ্ছে এটা সম্পূর্ণভাবে পরিকল্পিত অপরাধ হচ্ছে। এটা পুরো দেশের রাজনীতি, নির্বাচন সেটাকে একদিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য এই পরিকল্পনা, চক্রান্ত।
প্রতিবাদ সভায় বণিক বার্তার প্রকাশক ও সম্পাদক এবং সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদের সঞ্চালনায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি এ কে আজাদ, সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর, প্রথম আলোর সম্পাদক ও প্রকাশক মতিউর রহমান, ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনামসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক, প্রকাশক, রাজনৈতিক দলের নেতা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিক সংগঠনের নেতাবৃন্দ, ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, গবেষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সংহতি জানান। প্রতিবাদ সভা শেষে কারওয়ান বাজার সংলগ্ন প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের সামনে মানববন্ধন করেন।










