১৭ অক্টোবর সারা দেশের মতো যশোর জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। যশোর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আসতে আগ্রহী অর্ধডজন আওয়ামী লীগ নেতা। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই আগ্রহীরা কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। যদিও জেলা পরিষদে দলীয় মনোনয়ন ঠিক করবেন সভাপতি শেখ হাসিনা।

যশোরে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে আগ্রহীদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান প্রশাসক সাইফুজ্জামান পিকুল, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল মজিদ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, সহসভাপতি খয়রাত হোসেন, আবদুল খালেক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল।

জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে যশোর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা শাহ হাদিউজ্জামন। এক বছর দায়িত্ব পালন করা অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে প্রধানমন্ত্রী দলীয় মনোনয়ন দেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সাইফুজ্জামান পিকুলকে। মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাকে প্রশাসক হিসেবে রাখে সরকার। তিনি আবারো চেয়ারম্যান পদে আসতে আগ্রহী।

সাইফুজ্জামান পিকুল বলেন, আমি চেয়ারম্যান হওয়ার পর যশোর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। রাস্তা নির্মাণ, শিক্ষাবৃত্তি, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ও অসহায় মানুষকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেছি। আবারো চেয়ারম্যান হতে পারলে বাকি কাজ করতে পারব। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করব দলীয় মনোনয়নের জন্য।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন বলেন, আমি ১৯৬৮ সালে জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক ছিলাম। ২০১২ সাল থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। এর আগে ২০০৩-১১ সাল পর্যন্ত নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ১৯৯৯-২০১২ সাল পর্যন্ত যশোর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ছিলাম। দল ক্ষমতায় আসার পর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যরা জনপ্রতিনিধি হয়েছেন। আমি কোথাও যেতে পারিনি। এজন্য এবার আশাবাদী দলীয় সভাপতি আমাকে যশোর জেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেবেন।

কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল মজিদ বলেন, ১৯৭৪ সাল থেকে আমি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ১৯৭৫ সালে ঢাকার ধানমন্ডি থানা ছাত্রলীগ ও ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলাম। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলাম। এখন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হিসেবে আছি। আমি দলের কাছে মনোনয়ন চাইব।

জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খয়রাত হোসেন বলেন, আমি ৫৮ বছর ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। দেশের জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেছি। এখন দলীয় নেত্রী যদি আমাকে জেলা পরিষদে মনোনয়ন দেন তাহলে জনগণের সেবা করতে পারব। শেষ জীবনে আমার কোনো লোভ নেই, শুধু যশোরের উন্নয়নে কাজ করতে চাই।

জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সদ্যবিলুপ্ত যশোর জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল খালেকও আলোচনায় রয়েছেন। তিনি বলেন, জেলা পরিষদের নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা হওয়ার পর ঢাকায় নেতাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। প্যানেল চেয়ারম্যান ছিলাম। আশা করছি নেত্রী এবার চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেবেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল বলেন, আমি ১৯৮৬ সালে সিটি কলেজ ছাত্রলীগের ভিপি ছিলাম। এরপর এরশাদবিরোধী আন্দোলনে অগ্রভাগে ছিলাম। জেলা পরিষদে চেয়ারম্যন পদে দলীয় মনোনয়ন চাইব।