সিলেটে বন্যার পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। পানি যত কমছে, বানভাসিদের বহুমুখী দুর্ভোগ তত বাড়ছে। নগরীর চারদিকে গলে-পচে যাওয়া ময়লা-আবর্জনা থেকে ছড়াচ্ছে উৎকট গন্ধ। চলাচলের সময় মানুষ নাক ঢেকে এসব স্থান পার হচ্ছেন। রয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকটও। বিদ্যুতের খুটি হেলে পড়া, গ্যাস লাইনে লিকেজসহ নানা ঝুকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে অভিযোগ স্থানীয়দের। 

অন্যদিকে বন্যা কবলিত সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলোতে চলছে ত্রাণের সংকট। বানে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বিপুল সংখ্যক মানুষের ঘরবাড়ি। পানিবাহিত নানা রোগের শঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

বানভাসিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সিলেট নগরীতে বন্যার পানি কমলেও অনেক স্থানে আবদ্ধ হয়ে থাকা পানি নামছেনা। ময়লা, দুর্গন্ধযুক্ত এসব পানি কালো রং ধারণ করেছে। যেসব স্থান থেকে পানি সরে গেছে সেসব স্থানে পচা ময়লা আবর্জনা পড়ে আছে। নগরীর তেলিহাওর এলাকার পানি নেমে গেছে। সিলেট ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স কার্যালয়ের সামনের সড়কে সৃষ্টি হয়েছে দুটি বড় বড় গর্ত। আশপাশে সৃষ্ট হয়েছে জলাবদ্ধতা। এসব পানিতে ময়লা আবর্জনা ভাসছে। পানি বাতাসের সাথে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। তালতলা পয়েন্টের একটি অংশেও এখনো পানি রয়েছে।

বন্যা পরবর্তী সময়ে নগীর বাসিন্দারা সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন বিশুদ্ধ পানি নিয়ে। সিটি করপোরেশনের পানির সঞ্চালন লাইন ও পাম্প বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ায় এখন পর্যন্ত পানি সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি।

নগরীর কলাপাড়ার বাসিন্দা সালেহ আহমদ বলেন, বাসার মটর পানির নিচে রয়েছে। তাই রান্না ও খাবার পানির জন্য হাহাকার চলছে। সিটি করপোরেশন থেকে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ করা হচ্ছেনা। অনেকে বাজার থেকে পানি কিনে জরুরি চাহিদা মেটাচ্ছেন।

সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. এস এম শাহারিয়ার বলেন, বন্যার পর ডায়রিয়া ও চর্মরোগে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা রয়েছে। তবে পানিবাহিত রোগ যাতে ছড়িয়ে না পড়ে এ জন্য আমরা এরইমধ্যে ১৪০টি মেডিকেল টিম গঠন করেছি। এসব টিম নগরী ও বিভিন্ন উপজেলায় বন্যার্তদের সেবায় কাজ করছে।

পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে চলতি মাসের ১১ মে থেকে সিলেটের বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। ধীরে ধীরে বন্যার পানি বেড়ে সিলেট মহানগরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। এতে মহানগরীর প্রায় ২০টি ওয়ার্ড বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সময় অনেক মানুষই বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়ে অবস্থান নেন। পাঁচ দিন পানিবন্দী থাকার পর গত শনিবার রাত থেকে এসব এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করে।

অপরদিকে সিলেট সদরসহ সীমান্তবর্তী কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট, জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট উপজেলায় বন্যার পানি ধীরে ধীরে নামছে। তবে নামার সঙ্গে মানুষের মধ্যে ত্রাণের জন্য হাহাকার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র ছেড়ে বাড়িতে চলে যাচ্ছেন। তবে সেখানে এখনো থাকার মত পরিবেশ হয়নি।

সিলেট জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী নিলয় পাশা জানান, বন্যা পরিস্থিতি অনেক উন্নতির দিকে। দু-এক দিনের মধ্যে বেশিরভাগ এলাকা থেকেই পানি নেমে যাবে।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী জানান, এখনো অনেক এলাকা থেকে পানি নেমে যায়নি। অনেকেই আশ্রয় কেন্দ্র ছেড়ে বাসায় ফিরেছেন। তাদের খাদ্য সহায়তা নিশ্চিতকরণের কাজ চলছে। খুব শিগগিরই বিশেষ পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হবে বলে জানান তিনি।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান জানান, বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে বন্যার্তদের তালিকা করে তাদের হাতে ত্রাণ পৌছে দেয়া হচ্ছে। ত্রাণ কার্যক্রম সার্বক্ষনিক তদারকি করা হচ্ছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি উন্নতি হচ্ছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।