ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে ১০ জন নিহত ও কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে। আজ বুধবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে যশোর-ঝিনাইদহ সড়কের বারোবাজারের পিরোজপুর নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলেই ৯ জন এবং হাসপাতালে নেয়ার পথে এক জন মারা যান। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে।
আহতদের মধ্যে ৭ জনের অবস্থা আশঙ্কজনক। প্রাথমিক অবস্থায় নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এর মধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মোস্তাফিজুর রহমান নামের একজন সিপাই রয়েছেন বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মাগুরাগামী জিকে পরিবহনের একটি বাস যাত্রী নিয়ে যশোর থেকে মাগুরার দিকে যাচ্ছিল। বাসটি বারোবাজার পার হয়ে পিরোজপুর আমজাদ আলী ফিলিং স্টেশনের সামনে পৌঁছলে বিপরীত থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে যাত্রীবাহী বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার উপর উল্টে যায়। বাসটি আড়াআড়িভাবে উল্টে পড়ে থাকার কারণে রাস্তার উভয় পাশে শতশত বাস ট্রাক আটকে পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয় জনতার সঙ্গে কালীগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের সদস্যরা হতাহতদের উদ্ধার করে।
কালীগঞ্জ দমকল বাহিনীর স্টেশন অফিসার শেখ মামুনুর রশিদ জানান, তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করেন এবং জীবিত উদ্ধারকৃতদের মধ্যে একজন যশোর নেয়ার পথে মারা যান। সব মিলিয়ে ১০জন মারা গেছেন। পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় বাসের মধ্যে থেকে হতাহতদের উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের কালীগঞ্জ ও যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কালীগঞ্জ থানার ওসি মাহফুজুর রহমান জানান, নিহতদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার পর ঝিনাইদহ ৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার, ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ, কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুবর্ণা রানী সাহা, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ইউএনও বদরুদ্দোজাসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ বলেন, দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিত্সার ব্যয়ভার বহন ও নিহতদের পরিবারের আর্থিক সহযোগিতা করা হবে।










