নারায়ণগঞ্জের রুপগঞ্জে এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর স্বামীসহ তাকে হত্যার ঘটনায় ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক নাজমুল হক শ্যামল এই রায় ঘোষণা করেন।

 

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- লোকমান, শফিক, সুমন, আরিফুল, মো. সুমন ও জামাল। এদের মধ্যে সুমন, লোকমান ও শফিক পলাতক।

 

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রকিবুজ্জামান রাকিব জানান, এ মামলায় অভিযুক্ত ছয় আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে আদালত। রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পরে হলেও ন্যায় বিচার পেয়েছি।


তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী শাহাদাত হোসেন বলেন, ন্যায় বিচার পায়নি আসামি পক্ষ। আমরা উচ্চ আদালতে যাবো।

 

মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান জানান, রুপগঞ্জের দেবই এলাকার আনোয়ার হোসেনের মেয়ে খাদিজার সাথে আব্দুর রহমানের বিয়ে হয়। অভাব অনটনের কারণে তাদের পরিবারে দাম্পত্য কলহ ছিল। এ কারণে খাদিজা বাপের বাড়ি চলে এসে একটি মশার কয়েল কারখানায় কাজ নেন। ২০০৯ সালের ১১ আগস্ট খাদিজা কয়েল কারখানায় কাজ শেষে রাতে সহকর্মী আমেনা বেগমের সঙ্গে বাসায় ফিরছিলেন। পথে গাউছিয়া কটন মিলের পেছনে  স্বামী আব্দুর রহমানের সঙ্গে দেখা হলে, একটি বেবী টেক্সিযোগে স্বামীর সঙ্গে চলে যান খাদিজা। পরে ১৬ আগস্ট সকাল ১১টার দিকে বোচার বাগ এলাকায় রমিজউদ্দিনের ডোবায় কচুরীপানা দিয়ে ঢাকা অবস্থায় খাদিজা ও আব্দুর রহমানের মৃতদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবরে পেয়ে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় খাদিজার বাবা আনোয়ার হোসেন মিয়া বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত করেন রুপগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কৃষ্ণ সরকার। আসামি আরিফুল, মো. সুমন ও জামালকে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে যে, স্বামী আব্দুর রহমান স্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ছয়জনকে ১০ হাজার টাকায় চুক্তি করেন। আসামিরা স্বীকার করেন, ১১ আগস্ট রাতে খাদিজাকে রাত ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত পালাক্রমে তারা ছয়জনে ধর্ষণ করেন। এরপর ডোবার পানিতে চুবিয়ে খাদিজাকে হত্যা করা হয়। কিন্তু স্বামী আব্দুর রহমান চুক্তি অনুযায় ১০ হাজার টাকা না দেয়ায় এবং এ ঘটনা মানুষকে বলে দিতে পারে এই সন্দেহে তাকেও গলাকেটে হত্যা করেন তারা। দুইজনের মৃতদেহ ডোবার পানিতে কচুরিপানার নীচে ঢেকে দিয়ে পালিয়ে যান তারা।