লেখক-গবেষক, রাজনীতিক ও জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সভাপতি বদরুদ্দীন উমরের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন দেশের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও রাজনৈতিক দল।
আজ রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) এক শোকবার্তায় আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। সেইসঙ্গে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
পৃথক শোকবার্তায় সংস্কৃতি উপদেষ্টা বলেন, বদরুদ্দীন উমর সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক ও সামাজিক মুক্তির পক্ষে সততা, বস্তুনিষ্ঠতা ও মনীষা নিয়ে অবিচল থেকে নির্ভীক চিত্তে কাজ করে গেছেন। পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলেও তার কণ্ঠস্বর ছিল সজাগ ও সুদৃঢ়।
বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাসচর্চা ও স্বতন্ত্র রাজনৈতিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে বদরুদ্দীন উমর তার গবেষণা ও লেখনিতে ভাষা আন্দোলন থেকে পরবর্তীকালের বাংলাদেশের সামাজিক-রাজনৈতিক ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো দৃঢ়তার সঙ্গে তুলে ধরেছেন। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের নতুন গতিপথ নির্মাণে তার লেখনি অনিবার্য ভূমিকা পালন করে যাবে বলেও শোকবার্তায় উল্লেখ করেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা।
বদরুদ্দীন উমরের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। শোকবার্তায় তিনি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
বদরুদ্দীন উমরের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। শোকবার্তায় তিনি বলেন, দর্শন, রাজনীতি ও অর্থনীতি বিষয়ক শিক্ষা ও গবেষণায় তিনি অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। দেশের রাজনীতি, ইতিহাস, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধসহ নানা বিষয়ে তিনি লেখালেখি করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এসব অবদানের জন্য তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
বদরুদ্দীন উমরের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, বদরুদ্দীন উমর গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বহু অবদান রেখে গিয়েছেন। আমি তার ইন্তিকালে শোক প্রকাশ করছি ও তার রূহের মাগফিরাত কামনা করছি।
বদরুদ্দীন উমরের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি ও নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল। তারা বলেন, বদরুদ্দীন উমর বাংলাদেশের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে এক অনন্য সাধারণ চরিত্র। তিনি বার বার ইতিহাসের গতিধারা বিশ্লেষণ করে জনগণের সংগ্রামের পথনির্দেশ করেছেন। জীবনের পুরোটা সময় জুড়ে অবিচল থেকেছেন প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক, গণমুখী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে।
বদরুদ্দীন উমরের শোকসন্তপ্ত পরিবার ও তার রাজনৈতিক সহকর্মীদের গভীর সমবেদনা জানিয়ে তারা বলেন, তার মৃত্যু বাংলাদেশের মুক্তিকামী জনগণের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি, যার ভার আমাদের বহন করতে হবে। আমরা তার জীবন ও কর্মের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই।
বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের বয়ান উৎপাদক ও সমর্থক মূলধারার বুদ্ধিজীবী ও সুশীল সমাজের বিপরীতে বদরুদ্দীন উমর গণমানুষের পক্ষের চিন্তক ও রাজনৈতিক শক্তি ছিলেন বলে মনে করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এক শোকবার্তায় দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, জুলাই অভ্যুত্থান সংঘটিত হওয়ার সময় এ গণআন্দোলনকে তিনি ‘গণঅভ্যুত্থান’ হিসাবে চিহ্নিত করতে পেরেছিলেন। সেইসঙ্গে পূর্বের অভ্যুত্থানসমূহের তুলনায় এটির ব্যাপকতা স্বীকার করেছিলেন। এছাড়াও, বাহাত্তরের মুজিববাদী সংবিধানকে তিনি ১৯৭২ সালেই ‘চিরস্থায়ী জরুরি অবস্থার সংবিধান’ হিসাবে অভিহিত করেছিলেন।
রোববার সকালে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বদরুদ্দীন উমর। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধকব্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৪। বদরুদ্দীন উমর মৃত্যুকালে স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন।










