বঙ্গোপসাগরে কক্সবাজার চ্যানেলে মাছ ধরা ট্রলারডুবির ঘটনায় দুই জেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃতরা হলেন আবু তৈয়ব ও সাইফুল ইসলাম। গতকাল বিকালে মহেশখালী ও সন্ধ্যায় সোনাদিয়া চ্যানেলে ভাসমান অবস্থায় তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃতরা কক্সবাজার সদরের খুরুশকুল ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। ট্রলারডুবির ঘটনায় আরো ছয় জেলে নিখোঁজ রয়েছেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার দুপুরে সাগরে বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে ডুবে যায় মায়ের দোয়া নামে একটি মাছ ধরার ট্রলার। ওই ট্রলারে ১৯ জেলে ছিলেন। ট্রলারডুবির পর দুই দফায় ১১ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিখোঁজ হন আট জেলে।

উদ্ধার হওয়ার জেলেদের মধ্যে মোহাম্মদ আলম (৫০) বলেন, শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে বিশাল একটি ঢেউয়ে ট্রলার উল্টে যায়। এতে ট্রলারে থাকা ১৯ জেলে সাগরে ভাসতে থাকেন। ১৯ জনের মধ্যে আমিসহ রাশেদ, ফরিদ, হাফেজ—এ চারজন একটি লাইফ জ্যাকেট ধরে প্রায় ২ ঘণ্টা ভাসতে থাকি। একপর্যায়ে সাগর থেকে ফেরার পথে দুটি ট্রলার আমাদের উদ্ধার করে। এরপর ঘটনাস্থলে কোস্টগার্ড এসে চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার উপকূলে নিয়ে যায়। এখন মোটামুটি সুস্থ রয়েছি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ডুবে যাওয়া ট্রলারের মালিক কক্সবাজার সদরের খুরুশকুল লামাজিপাড়ার বাসিন্দা জাকের সওদাগর বলেন, মঙ্গলবার ১৯ মাঝিমাল্লা নিয়ে গভীর সাগরে মাছ শিকারে যায় তার এফবি মায়ের দোয়া ট্রলার। পরবর্তী সময়ে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সাগর উত্তাল হওয়ায় মাছ শিকার না করে শুক্রবার উপকূলে ফিরতে শুরু করে ট্রলারটি। কিন্তু দুপুরে বঙ্গোপসাগরের নাজিরারটেক মোহনায় এসে ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি উল্টে যায়। পরে স্থানীয় জেলে ও কোস্টগার্ড সদস্যরা ১১ জেলেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করে। বাকিরা নিখোঁজ হন। এর মধ্যে গতকাল বিকালে ও সন্ধ্যায় জেলে আবু তৈয়ব ও সাইফুলের মরদেহ উদ্ধার হলো।