উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার নিম্নাঞ্চলে। এতে তলিয়ে গেছে উপজেলার অন্তত ১৭টি গ্রাম। ঢলের কারণে পানিতে তলিয়ে উপজেলার চারটি সড়কে যাতায়াত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের নৌকায় চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত সোমবার রাত থেকে ভারতের মেঘালয়ের পাহাড়ি এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এর ফলে গতকাল মঙ্গলবার থেকে মেঘালয় সীমান্ত লাগোয়া গোয়াইনঘাটে ঢল নামে। এতে এ উপজেলার নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যেতে শুরু করে। ঢলের পানি এ পথ দিয়ে সুনামগঞ্জের হাওড়ে গিয়ে জমা হচ্ছে।
মঙ্গলবার রাতেও ভারতে পাহাড়ি এলাকায় প্রচুর বৃষ্টি হয়। ফলে আজ পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। ঢলে গোয়াইনঘাট উপজেলার পশ্চিম জাফলং গোয়াইন, পিরিজপুর, কর্নি, আলীর গ্রাম, ছাতারগ্রাম, লাবু, পরগনা, ফেনাই কোনা, পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের জাফলং চা বাগান, মমিনপুর, আসাম পাড়া, আসামপাড়া হাওড়, চৈইলাখেল নবম খণ্ড, সানকিভাঙা, বাউরভাগ, বাউরভাগ হাওড়, আলীরগাঁও ইউনিয়নের নাইন্দা, তিতকুলি, বুদিগাঁও, লেঙ্গুড়া ইউনিয়নের লেঙ্গুড়া, লেঙ্গুড়া হাওড়, সিটিংবাড়ি, সিটিংবাড়ি হাওড়, পাবিজুরি, বাগালতি, পরকুড়ি বিলেরপার, বলালোর পার, সতির হাওড়, নিয়াগুল হাওড়, গুরকচি, গুরকচি হাওড়, দ্বারিখাই হাওড়, ধুরারবন্দ, রুস্তমপুর ইউনিয়নের টেকনাগুল, মাটিকাপা, বীর মঙ্গল, বীর মঙ্গল হাওড়, জামকান্দি, নিজধরগ্রাম হাওড়, গোজারকান্দি, কাঠালবাড়ি কান্দি, খালপাড়, পাতলীকোনা হাওড়, বগাইয়া হাওড়, ঝারিখাল কান্দি, দমদমা হাওড়, নতুন ভাঙা হাওড় ও ইটাচকি কান্দি গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। জৈন্তাপুরে সারি নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
উজান থেকে নেমে আসা পানিতে তলিয়ে সারী-গোয়াইন, সিলেট সালুটিকর-গোয়াইনঘাট, জাফলং-রাধানগর-গোয়াইনঘাট ও সোনার হাট-গোয়াইনঘাট সড়কে যান চলাচল ও মানুষের যাতায়াত পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এসব সড়কের ওপর দিয়ে কোথাও হাঁটু আবার কোথাও কোমর উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হচ্ছে। স্থানীয়দের নৌকায় করে যাতায়াত করতে দেখা গেছে।
গোয়াইনঘাটের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সুলতান আলী জানান, পাহাড়ি ঢলে উপজেলার ১০ থেকে ১৫ হেক্টর আউশ ধানের বীজতলা, ৩০ হেক্টর বোনা আউশ ও ৫ হেক্টর সবজি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিতে নিমজ্জিত এসব বীজ ও সবজি ক্ষেত ২-৩ দিনের মধ্যে শুকিয়ে গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি হবে না। তবে তার অধিক সময়ে পানি থাকলে ক্ষয়ক্ষতি শতভাগ হতে পারে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুস সাকিব বলেন, উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সৃষ্ট বন্যায় গোয়াইনঘাটের নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোন ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। সব ইউনিয়নের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। উপজেলার নিম্নাঞ্চলের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়কে বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র ঘোষণা করা হয়েছে। পানিবন্দি পরিবারের জন্য জরুরি ত্রাণ সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
পাহাড়ি ঢলে আকস্মিক বন্যা, তলিয়ে গেছে সিলেটের ১৭ গ্রাম
৪ সড়কে যাতায়াত বন্ধ
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার নিম্নাঞ্চলে। এতে তলিয়ে গেছে উপজেলার অন্তত ১৭টি গ্রাম। ঢলের কারণে পানিতে তলিয়ে উপজেলার চারটি সড়কে যাতায়াত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের নৌকায় চলাচল করতে হচ্ছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, গত সোমবার রাত থেকে ভারতের মেঘালয়ের পাহাড়ি এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এর ফলে গতকাল মঙ্গলবার থেকে মেঘালয় সীমান্ত লাগোয়া গোয়াইনঘাটে ঢল নামে। এতে এ উপজেলার নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যেতে শুরু করে। ঢলের পানি এ পথ দিয়ে সুনামগঞ্জের হাওড়ে গিয়ে জমা হচ্ছে।










