মুজিব বর্ষ উপলক্ষে সিরাজগঞ্জের নয়টি উপজেলার ৭৯৬টি গৃহহীন পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছে সরকার। এরই মধ্যে প্রায় ৭০০টি ঘর নির্মাণ শেষ হয়েছে। বাকি ঘরগুলো দ্রুত নির্মাণ শেষে ১৬ জানুয়ারি গৃহহীন পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন থেকে স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে থাকা সরকারি খাসজমি উদ্ধার করে সেখানে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে ঘর নির্মাণের কাজ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে অধিকাংশ ঘর নির্মাণ শেষ হয়েছে। বাকিগুলোর নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করা হবে।

সূত্রটি জানায়, মুজিব বর্ষ উপলক্ষে সিরাজগঞ্জে প্রথম পর্যায়ে ৭৯৬টি ঘর নির্মাণ করে গৃহহীনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২০৭টি, রায়গঞ্জে ১০০টি, উল্লাপাড়ায় ৪২টি, কাজিপুরে ৩৫টি, বেলকুচিতে ৪০টি, শাহজাদপুরে ১৫০টি, কামারখন্দে ৬০টি, তাড়াশে ১৫২টি ও চৌহালী উপজেলায় ১০টি ঘর গৃহহীন পরিবারের মাঝে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। দুই কক্ষবিশিষ্ট সেমিপাকা প্রতিটি ঘর নির্মাণে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। সে হিসেবে পুরো প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে ১৩ কোটি ৬১ লাখ ১৬ হাজার টাকা।

ঘরগুলো নির্মাণের সার্বিক বিষয় তদারকি করছেন সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (এসিল্যান্ড) ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তারা (পিআইও)। ১৫ জানুয়ারির মধ্যে গৃহহীনদের মধ্যে ঘর হস্তান্তর করা হবে।

সম্প্রতি সদর উপজেলার খোকশাবাড়ী ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ৩৩টি ঘর নির্মাণের কাজ চলছে। এরই মধ্যে পুরোপুরি ৩০টি ঘরের কাজ শেষ হয়ে গেছে। বাকি তিনটি ঘরের কাজও দ্রুত শেষ করার আশা সংশ্লিষ্টদের।

রায়গঞ্জ উপজেলার ব্রহ্মগাচা ইউনিয়নের আচিয়া বেগম বলেন, এত দিন ভাঙা ঘরে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছিলাম। কখনো পাকা ঘরে থাকতে পারব চিন্তা করতে পারিনি। বৃষ্টির সময় চাল বেয়ে পানি পড়ত, আর শীতে ভাঙা বেড়া দিয়ে বাতাস ঢুকত। এতে পরিবার নিয়ে চরম কষ্টে দিন পার করতে হয়েছিল আমাদের। সরকারের দেয়া এ ঘর দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব হবে।

জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী মুজিব বর্ষ উপলক্ষে সিরাজগঞ্জে প্রথম পর্যায়ে ৭৯৬টি ঘর নির্মাণ করে গৃহহীনদের মধ্যে ঘর হস্তান্তর করা হবে। সরকারি খাসজমি উদ্ধার করে সেখানে এ ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী প্রকৃত অসহায় গৃহহীন পরিবার যেন ঘর পায় সেই মোতাবেক প্রকৃত তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। সর্বোচ্চ যাচাই-বাছাই শেষে তালিকাটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। এছাড়া ঘর বরাদ্দে কোনো প্রকার তদবির ও অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা যেন কেউ নিতে না পারে সেজন্য সর্বদা নজরদারি রাখা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, সরকারের দেয়া প্রকল্পটি প্রায় শেষ হওয়ার পথে। কিছু কাজ বাকি রয়েছে, সেগুলো চলতি সপ্তাহের মধ্যেই শেষ করা হবে। ১৬ জানুয়ারির মধ্যেই সুবিধাভোগীদের মধ্যে সরকারের দেয়া এসব ঘর হস্তান্তর করা হবে।