কক্সবাজারের টেকনাফ সমুদ্র উপকূলে দুটি ট্রলারডুবির ঘটনায় আরো ১৭ রোহিঙ্গার মরদেহ উদ্ধার করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ নিয়ে দুদিনে ৩১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৩ নারী ও ১৫ শিশু রয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে টেকনাফ সৈকতে ১০ জন রোহিঙ্গার মরদেহ সৈকতে ভেসে আসে। এদিন সন্ধ্যায় আরো পাঁচজনের মরদেহ পাওয়া যায়। গতকাল সকাল থেকে বিকালের মধ্যে শাহপরীর দ্বীপের কাছের জেটি এলাকা থেকে স্থানীয়রা আরো পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে। এছাড়া টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া থেকে চারজন এবং পশ্চিমপাড়া থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিভিন্ন সময় আরো চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ও বুধবার ভোরে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে ঢেউ ও ঝড়ের কবলে পড়ে নাফ নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ইউপির চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জানান, মঙ্গলবার ও বুধবার ভোরে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের হাবিরছড়া ও রাজারছড়া পয়েন্ট এলাকায় রোহিঙ্গা বহনকারী ট্রলার ডুবে যায়। এতে কয়েকজন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও বেশির ভাগ যাত্রী সাগরে তলিয়ে যায়।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আদনান চৌধুরী জানান, মরদেহগুলো উদ্ধারের খবর পেয়ে জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাফ নদী ও সাগর-তীরবর্তী এলাকা দিয়ে মিয়ানমার থেকে রাতের আঁধারে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে দুটি ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটে। ওইসব ঘটনায় নিখোঁজ নারী, পুরুষ ও শিশুর মরদেহ বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে ভেসে আসছে।

এদিকে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে টহল এবং নজরদারি জোরদার করেছে কোস্টগার্ড। গতকাল দুপুরে কোস্টগার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারে চলমান সংঘাতের কারণে সীমান্ত নিরাপত্তায় কঠোর নজরদারি বজায় রেখেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। চলমান পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে নাফ নদী ও সেন্টমার্টিন এলাকায় যেকোনো অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে উপকূলীয় অঞ্চলে টহল জোরদার করা হয়েছে। সমুদ্রে সার্বক্ষণিক টহল জাহাজ মোতায়েনসহ নিয়মিত হাই স্পিড বোটের মাধ্যমে টহল পরিচালনা করছে কোস্টগার্ড।