যশোরে এবার বৃষ্টিপাত কম। শ্রাবণ চলে যাওয়ার পর সামান্য বৃষ্টির দেখা মিললেও সেচ দিয়ে আমন খেত প্রস্তুত করতে হয়েছে কৃষককে। এরই মধ্যে ডিজেল ও সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় কৃষককে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা অবস্থা। এতে ধান উৎপাদনে খরচ বেড়ে গিয়েছে। খেত প্রস্তুত থেকে শুরু করে সেচ দেয়া, ধানের চারা রোপণ, ফসল ঘরে তোলা, শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি সব ক্ষেত্রেই বাড়তি খরচের বোঝা টানতে হচ্ছে কৃষককে। এতে উৎপাদিত ফসল বিক্রি করে খরচ উঠবে না বলে আশঙ্কা তাদের।
জুলাইয়ের শুরু থেকে মধ্য অক্টোবর পর্যন্ত আমন মৌসুম। আমন ধানের চারা রোপণের সময়কাল মধ্য জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। জমি প্রস্তুত করার সময় টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সার দিতে হয়। চারা রোপণের পর জুলাই ও আগস্ট মাসে ইউরিয়ার ব্যবহার হয় সবচেয়ে বেশি। কেজিপ্রতি ৬ টাকা মূল্যবৃদ্ধির ফলে কেবল ইউরিয়া সারেই অনেক খরচ হয়ে যাবে কৃষকের।
যশোর আঞ্চলিক কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর জেলায় রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৯৪৭ হেক্টর জমিতে। এরই মধ্যে আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৭০০ হেক্টর, যা ৯৭ শতাংশ। চলতি মাস পর্যন্ত কৃষক আমন চারা রোপণ করবেন। চলতি বছরের জুনে ১৪৫ দশমিক ২৫ ও আগস্টে ১৫৫ দশমিক ৭৬ মিলিমিটার। ২০২১ সালের জুনে বৃষ্টিপাত হয়েছে ২৮৫ মিলিমিটার, জুলাই মাসে ৩২১ মিলিমিটার ও আগস্টে ২২২ দশমিক ৩৫ মিলিমিটার।
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার মাটিকুমড়া গ্রামের গোলাম মোস্তফা জানান, এবার তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে আমন আবাদ করেছেন। গত বছর খেতে অল্প পরিমাণ সেচ দিতে হয়েছিল। এবার বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় সেচ দিয়ে আমনের জমি প্রস্তুত করছেন। তিনি বলেন, ডিজেলের দাম বাড়ায় সেচে ও চাষে খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। গত বছর আমার সব মিলিয়ে এক বিঘা জমিতে ১৪ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছিল। এবার অবস্থা আরো খারাপ। এক বিঘা জমিতে খরচ ২০ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যাবে। অর্থাৎ গত বছরের চেয়ে এবার ৬-৭ হাজার টাকা বিঘাপ্রতি খরচ বেড়েছে।
বাঘারপাড়া উপজেলার ধলগ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, এবার তিনি দেরিতে আমনের আবাদ করেছেন। তার পরও সেচ দেয়া লেগেছে। চার বিঘা জমিতে আবাদে প্রতি বিঘায় কমপক্ষে ২২ হাজার টাকা লেগেছে সব মিলিয়ে। গত বছরের চেয়ে এবার বিঘায় খরচ বেড়েছে কমপক্ষে ৮ হাজার টাকা।
ধান উৎপাদনে যশোরের কৃষক বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় ধান উৎপাদনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে। ধানের জমি প্রস্তুতের জন্য পাওয়ার টিলার কিংবা ট্রাক্টর দিয়ে তিন চাষে আগে ৭৫০ টাকা নেয়া হতো, এখন নেয়া হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকা। অনাবৃষ্টির কারণে এ বছর সেচ দিয়ে ধান আবাদ করতেও বিপাকে পড়েছেন কৃষক। ডিজেলচালিত ইঞ্জিনে আগে প্রতি ঘণ্টায় ১০০-১২০ টাকা নেয়া হতো, এখন নেয়া হচ্ছে ২০০ টাকা। এক বিঘা জমিতে একবার সেচ দিতে বাড়তি প্রায় ২০০ টাকা খরচ পড়ছে। এবার শ্রমিকের মজুরি বাড়ার কারণে ধান কাটতে খরচ হবে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা।
এ প্রসঙ্গে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, যশোর কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হক বলেন, ডিজেল, ইউরিয়া সার এবং কৃষি উপকরণের দাম বাড়ায় কৃষিতে একটা প্রভাব পড়েছে। তবে কৃষক উৎপাদিত ফসলের দামও ভালো পাচ্ছেন।










