পর্যটন নগরী কক্সবাজারে বৃষ্টির পানি নামতে শুরু করায় পরিস্থিতির
উন্নতি হচ্ছে। তবে ঘরবাড়ির পাশাপাশি রাস্তাঘাট, খেত-খামার ও মাছের ঘেরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
হয়েছে। পানিতে ভেসে ও পাহাড় ধসে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে ট্রলার ডুবির ঘটনায়
৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রশাসন বলছে, ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে জরুরি সহায়তাসহ সব
ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
এদিকে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কয়েকদিন ধরে পানিবন্দি হয়ে পড়েছিল
কক্সবাজারের কয়েক লাখ মানুষ। শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে প্লাবিত গ্রামগুলো থেকে
পানি নামতে শুরু করেছে। আবহাওয়া অফিসের কক্সবাজার কার্যালয়ের কর্মকর্তা আবদুল হান্নান
বলেন, গেল ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ২১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।
সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় কক্সবাজারের
সদর, পেকুয়া, চকরিয়া, কুতুবদিয়া, রামু, মহেশখালী, টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলার প্লাবিত এলাকা
থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। তবে অনেক স্থানে লোকালয়ের পানি নেমে গেলেও এখনো রাস্তাঘাট
ডুবে আছে। সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। ওই সব এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত
হয়ে পড়েছে।
পর্যটনের শহর কক্সবাজারের প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা
দিয়েছে। প্রধান সড়কসহ শহরের ৫০টি উপসড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া পানিবন্দি হয়ে
পড়েছিলেন টেকনাফ ও উখিয়ায় অন্তত ১০০ গ্রামের মানুষ। টেকনাফ সদর, হোয়াইক্যং, হ্নীলা,
বাহারছাড়া ও সাবরাং ইউনিয়নের গ্রামগুলো প্লাবিত হয়েছিল। উখিয়ার রাজাপালং, জালিয়াপালং,
হলদিয়াপালং ও পালংখালী ইউনিয়নের আরো ২০টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয়
জনপ্রতিনিধিরা।
টেকনাফের হ্নীলা রঙ্গিখালী লামারপাড়ার মামুনুর রশীদ নুরী জানান, পানিবন্দি
থেকে এখন অনেকটা মুক্ত। তবে বাড়ির ভেতরের অবস্থা খুবই খারাপ। রাস্তা ভেঙে চুরমার হয়ে
গেছে। এ মুহুর্তে পুনর্বাসন দরকার।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আদনান চৌধুরী বলেন, ভারি
বৃষ্টিতে টেকনাফের অর্ধশত গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। অনেক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তাদের
ত্রাণ দেয়া হচ্ছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিভীষণ কান্তি দাশ জানিয়েছেন,
টানা বৃষ্টির কারণে কক্সবাজারের অনেক এলাকা পানির নিচে। কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে।
এছাড়া ঝিলংজায় পাহাড় ধসে নিহত তিনজনের পরিবারকে ৭৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দিয়েছে
জেলা প্রশাসন। পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থান থেকে লোকজন সরিয়ে নেয়ার জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের
নেতৃত্বে কাজ চলছে।
তিনি জানান, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির
পুরো চিত্র নিরূপণ করতে কাজও চলছে।
এদিকে কক্সবাজারে ভ্রমণে আসা পর্যটকরা বৃষ্টি উপেক্ষা করে ছুটছেন
সাগরে। সাগরে লোনা জলে গা ভাসাচ্ছেন। পর্যটকরা জানান, সৈকতের বর্ষাকালীন সৌন্দর্য অন্যরকম।
আবার অনেককেই বৃষ্টির কারণে বিরক্তি প্রকাশ করতেও দেখা গেছে। তবে বৃষ্টির পানি নামতে
শুরু করায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন পর্যটকরা। বর্তমানে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।









